নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া, ঘাগড়া ও আগিয়া ইউনিয়নের সংযোগস্থল মৌদাম, টিকুরিয়া, পদুরকান্দা, কান্দাপাড়া, বেড়াইল, নোয়াগাঁও, উদুয়ারকান্দা ও রামকান্দা গ্রামে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক কভারেজ না থাকায় হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌদামসহ ওই গ্রামগুলোতে ২টি বাজার, ৩টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি দাখিল মাদ্রাসা, ১টি পোস্ট অফিস, ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, ৫টি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রামগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি থাকায় মোবাইলের অনেক গ্রাহক রয়েছেন। কিন্তু এখানে কোনো মোবাইল ফোন টাওয়ার না থাকায় নেটওয়ার্ক নেই। ফলে ফোন কল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিংসহ অধিকাংশ কাজ এখন ইন্টারনেট ভিত্তিক। পোস্ট ই-সেন্টারে অনলাইন ব্যাংকিং, চাকুরীর বিভিন্ন আবেদন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পরীক্ষার ফলাফল ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা রয়েছে। ক্লিনিকেও ই-চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক কভারেজ না থাকায় এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামগুলোর কয়েক হাজার মানুষ। তারা জরুরী কোনো সংবাদ বা খবরাখবর আদান প্রদান করতে পারেন না।
এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে দেশের বিভিন্ন কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। অনেকে বিভিন্ন স্থানে চাকুরী করে। প্রবাসেও রয়েছেন অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, মৌদাম গ্রামে টাওয়ার স্থাপনের জন্য স্থানীয় ভাবে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যাবে। মৌদাম বাজারের ব্যবসায়ী শামছুল হক মণ্ডল ও রাকিব হোসেন বাচ্চু বলেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অনেকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, মৌদামসহ ওই গ্রামগুলোতে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক না থাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার দূরে থাক ফোন কল-ই করা যায় না। ফলে করোনা কালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বা অনলাইন ক্লাস করতে পারছিনা। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানান কাজ নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই এখানে একটি টাওয়ার স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
