অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে অব্যাহতভাবে বাড়ছে যমুনায় পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার সকালে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৩.৪৭ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যা বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপরে এবং কাজিপুরে প্রবাহিত হচ্ছে ১৫.৪৬ মিটার দিয়ে যা রয়েছে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে।
এদিকে যমুনায় পানি বাড়তে শুরু করায় নদী পাড়ের মানুষের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে আতঙ্কের ছাপ। তারা জানান, অসময়ে এমনভাবে দফায় দফায় যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর হয়তো ফসলের শেষরক্ষা হবে না।
অপরদিকে দফায় দফায় যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার অভ্যন্তরীণ সকল নদনদীর পানিও বেড়েছে। তলিয়ে গেছে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের চাষ করা রোপা আমন ধান, সবজি ও নতুন করে বোনা মাসকলাইয়ের ক্ষেত।
স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জুন মাসের প্রথম থেকে শুরু হওয়া তিনদফা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ইতিমধ্যে কৃষি খাতে প্রায় সোয়া দুইশ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষক ঘুরে দাঁড়াতে রোপা আমন ধান চাষ, মাসকলাই, গম, ভুট্টা ও সবজিসহ নানা ফসল আবাদ করেছিল। কিন্তু যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষক অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ন এলাকায় ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে আছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বর্ষণের কারণে যমুনায় পানি বাড়ছে। তবে পানি বৃদ্ধিতে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বৃষ্টিপাতের কারণেই যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদনদীগুলোর পানি বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে পানি স্থিতিশীল হতে পারে।
ইত্তেফাক/এসি
