নিকলীর হাওরাঞ্চলে বিয়ের ধুম

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:০৯

হিন্দু-মুসলিম মেতেছে বিয়ের আনন্দে

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওরে এখন বিয়ের ধুম চলছে। প্রায় প্রতিদিনই হাওরের কোনো-না-কোনো গ্রামে থাকছে বিয়ের আসর। বাংলা শ্রাবণ মাসের শুরু থেকেই আরম্ভ হয়েছে এসব বিয়ের আয়োজন। এখন তা চলছে পুরোদমে। হাওরের হিন্দু-মুসলিম সব গ্রামেই বইছে বিয়ের আনন্দ। এর মধ্যে কিছু বাল্যবিবাহ হচ্ছে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে।

গত দুই বছর হাওরাঞ্চলের বোরো ধান অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকলেও বিয়েসহ সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম।

এবছর হাওরের কৃষক তাদের বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারায় ফিরেছে স্বচ্ছলতা। তাই বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের দিকে ফিরছে হাওরের পাড়ের মানুষ। গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় দেখা মিলছে আত্মীয়স্বজনদের মিলনমেলা। নিকলীর হাওরে প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫টি বিয়ের নৌকা দেখা যায়। ঐসব নৌকা বাহারি সাজে সজ্জিত। এসব বিয়ের নৌকা পাড়ি দিচ্ছে বিশাল জলরাশি। সেই সঙ্গে বাজছে সানাই। সানাইয়ের সুর হাওর পাড়ের মানুষের মনে দিয়ে যাচ্ছে আনন্দের দোলা। কোনো কোনো বিয়ের নৌকাতে দেখা যাচ্ছে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র। আগেকার দিনের মতো শুধু মাইক বাজিয়ে বিয়ের বজরা যেতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি বর-কনের বাড়ি সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জায়। চলছে ভাটির সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।

নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামের মিয়া হোসেন এ বছরই বিয়ে দিয়েছেন দুই  মেয়ের। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, টানা দুই বছর ফসলহানির কারণে বিয়ে উপযুক্ত মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয়নি। এ বছর জমিতে উত্পাদিত ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারায় আমি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। দামপাড়া গ্রামের কৃষক সুবান মিয়া জানান, আমার পরিবারসহ হাওরের ৮০ শতাংশ মানুষের সবকিছুই নির্ভর করে বোরো ফসলের ওপর। গত দুই বছর ফসল তুলতে না পারায় ছেলেমেয়ের বিয়ে দিতে পারিনি। এ বছর ফসল ভালো হাওয়ায় ও ঘরে তুলতে পারায় আনন্দের সঙ্গে ছেলে বিয়ে দিতে পেরেছি।