রৌমারীতে পঞ্চম দফা বন্যায় তলিয়ে গেছে আমন খেত

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৬

বিপাকে কৃষক

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

পঞ্চম দফায় বন্যার পানিতে রৌমারীতে সাড়ে ৯০০ হেক্টর জমির আমন ধান তলিয়ে গেছে। উপজেলার বাঘমারা শহর রক্ষার ভাঙা বাঁধ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রবেশ করে। এতে গ্রামগুলোর প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দিসহ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে সর্বস্ব হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঐসব কৃষক পরিবার।

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের জন্দিরকান্দা, চাক্তাবাড়ি, পদ্মারচর, বাঘমারা, কলেজপাড়া, খনজনমারা, বাইসপাড়া, বাগুয়ারচর, জিগ্নিকান্দি, বাইটকামারী, খাঁপাড়া, বাঞ্ছারচরসহ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি। এদিকে পশু খাদ্যের জন্য হাহাকার অবস্থায় পড়েছেন বন্যাকবলিত কৃষক ও খামারিরা। অভাবের তাড়নায় কৃষক কম দামে বিক্রি করছেন গৃহপালিত পশু। উপজেলার বাইটকামারী গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, খনজনমারা স্লুইসগেট বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় বন্যায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। ঐ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশি দামে চারা ধান কিনে খেতে রোপণ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পঞ্চমবারের বন্যায় আবারও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বন্দবেড় গ্রামের রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রায় চার বিঘা জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছিলাম। শহররক্ষা বাঁধ ভাঙা থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সহজেই প্রবেশ করে খেতের ফসল তলিয়ে গেছে।

বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে। তবে উপজেলা শহররক্ষা ও খনজনমারা স্লুইসগেট বেড়িবাঁধ  দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, নতুন করে বন্যায় সাড়ে ৯০০ হেক্টর রোপা আমন পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মাষকলাই, শাকসবজিসহ বিভিন্ন জমির ফসলও নিমজ্জিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, শহররক্ষা বাঁধ ভাঙা থাকায় বন্যার পানি সহজে নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্রবেশ করছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ না থাকায় ভাঙা শহররক্ষা বাঁধ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বরাদ্দ চেয়ে ঢাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত কাজ করা হবে।