কন্যাসন্তানকে অবহেলা নয়

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩১

এখনো আমাদের দেশে অনেক পরিবারে  কন্যাশিশু-দের মনে করা হয় বোঝা। ফলে নারীরা চার দেয়ালের বাইরের দুনিয়ায় তাদের প্রতিভা জাহির করতে পারছে না। আমাদের দেশে শিশুশ্রমিকদের অনেকই কন্যাশিশু। ঘরে অভাব দেখা দিলেই কন্যাশিশুদের গৃহকর্মে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গৃহপরিচারিকা হিসেবে কন্যাশিশুদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাও নতুন নয়। পরিবারের সদস্যদের কাছেও নিরাপদ নেই তারা। শারীরিক, মানসিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয় তাদের। যেন তাদের অপরাধ মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়া!

পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে কন্যাশিশুদের যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। মেয়ে নয় বরং মানুষ হিসেবে আচরণ করতে হবে। ছেলেমেয়েদের মাঝে ভেদাভেদ করে যে অসুস্থ সমাজ গঠিত রয়েছে তা পরিবর্তন করে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে সামনে আগাতে হবে। এখনই সময় জেগে ওঠার। আগামীর কন্যাশিশুদের জন্য সুস্থ সমাজ গঠন করতে হবে। মেয়েরাও পারে ছেলেদের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলতে। তাদের সুযোগ দিলে তারা কোনো দিক থেকেই পিছিয়ে থাকবে না। শুধু প্রয়োজন স্বাধীনতার, একটু ভরসা ও সুযোগের।

সমাজের উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষ উভয়ে মিলেই কাজ করতে হবে। গাড়ির কোনো একটি চাকা থেমে গেলে যেমন অন্য চাকাটি সম্পূর্ণ ভর নিয়ে সামনে আগাতে পারে না, তেমনি নারী থেমে থাকলে একা পুরুষের প্রচেষ্টায়ও সমাজের উন্নয়ন সাধন সম্ভব নয়। সমাজের উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের মিলেমিশে সামনে এগোতে হবে। এজন্য কন্যাশিশুদের দিতে হবে তাদের যথাযথ অধিকার। তাদের বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে তাদের।

তানজিলা চৌধুরী প্লাবনী

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী