করোনার প্রভাবে দেশের দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:৫২

গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে :জিইডি

আলাউদ্দিন চৌধুরী

করোনার প্রভাবে দেশের দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। ২০১৯ সালের হিসাবে দেশের দারিদ্র্য হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছিল। চলতি (২০২০) বছরের এপ্রিল থেকে জুন মেয়াদে এই তিন মাসে করোনার প্রভাবে নতুন করে দরিদ্র এই মানুষের হার বেড়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, করোনার প্রভাবে দেশের গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। ২০১৯ সালের হিসাবে শহরাঞ্চলে দরিদ্র হার ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে করোনার প্রভাবে বেড়ে ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। এ সময় গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র হার ২২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনার ঝুঁকি কমাতে দেশে ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে ছুটি বা লকডাউন ছিল। সেসময় নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী সবার ওপর প্রভাব পড়ে। অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে দেশের দারিদ্র্যসীমার কিছু ওপরে থাকা মানুষের আয় কমে যাওয়ায় তারা আবার নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসে। এ সময়কালে সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে সে বিষয়ে এই ধারণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। অস্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরিতে এর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিইসি সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, করোনার প্রভাবে যেটুকু দারিদ্র্য বেড়েছে সেটি কমিয়ে আনতে স্বল্পমেয়াদে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। গত জুন থেকে ছয় মাস মেয়াদি ত্বরিত পরিকল্পনা এবং এক বছর মেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাময়িক দরিদ্র হয়ে পড়া এই মানুষগুলো খুব দ্রুত আবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে চলে আসবে। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই দারিদ্র্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। নগদ অর্থ থেকে শুরু করে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যেটুকু দারিদ্র্য বেড়েছে সেটি এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অস্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। করোনার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর নানা পরিকল্পনা সেখানে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, করোনার প্রভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়েছে সে বিষয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ধারণাপত্র তৈরি করেছে। দেশের কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাবসহ সার্বিক ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ারও চিত্র সেখানে উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের এক হিসাবে করোনার প্রভাবে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত ভোগ ব্যয় কমেছে। ফলে নতুন করে ১৩ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়বে। সংস্থাটির হিসাবে সব মিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসতে পারে ৩৫ শতাংশ মানুষ। করোনার প্রভাবে দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার হিসাব উঠে এসেছে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) প্রতিবেদনেও। তাদের হিসাবে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশে নতুন করে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে দেশে এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৮০ লাখ। কোভিড-১৯ না থাকলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের আগেই দারিদ্র্য বিমোচন করতে সক্ষম হতো। কিন্তু বিআইডিএসের হিসাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দারিদ্র্য নির্মূল করতে হলে আগামী ১ দশক গড়ে ৮ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।