আরিচা-কাজীরহাট নৌরুট
শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
অনিয়মের বেড়াজালে বন্দি আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটের স্পিডবোট চলাচল। গত ৫ বছর যাবত্ রুট পারমিট না ছাড়াই অবৈধভাবে এ ব্যবসা পরিচালনা করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। ফলে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে অপরদিকে নিয়মনীতি না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হচ্ছে যাত্রীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ১১টি স্পিডবোট দিয়ে এ অবৈধ ব্যবসা পরিচালানা করছে। রুট পারমিট না থাকায় ইচ্ছেমতো ব্যবসা পরিচালনা করায় অল্প পুঁজিতে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল। জানা যায়, আরিচা-কাজীরহাট রুটের আরিচা পয়েন্টে প্রায় ৩৯টি স্পিডবোট রয়েছে। যার মাত্র ১১টির নিবন্ধন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরাই কেবল সিরিয়াল মেনে যাত্রী পারাপার করে। বাকি ২৮টি এখনো পর্যন্ত সিরিয়ালে আসতে পারেনি। উপজেলার শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নামে চলে সিরিয়ালে থাকা ১১টি স্পিডবোট। এর বাইরে কেউ স্পিডবোট চালাতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। অথচ কোনো কোনো সময় এ অল্প সংখ্যক স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে নদী পারাপার হচ্ছে মানুষ। আর একে পুঁজি করে সুযোগ মতো বাড়িয়ে দেওয়া হয় ভাড়া। বিশেষ করে ফেরি বা লঞ্চ পারাপারে সমস্যা হলে পুরো ঘাটের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্বল্প সংখ্যক স্পিডবোট মালিকদের হাতে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তখন ভাড়া আদায় করা হয় ইচ্ছেমাফিক। যা কোনো কোনো সময় দ্বিগুণে গিয়ে পৌঁছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা পর্যন্ত গড়ায়। একইভাবে ঈদের ছুটির আগে এবং পরেও তাদেরই এক তরফা কর্তৃত্ব চলে ঘাটে।
যমুনার আরিচা পয়েন্টে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে থাকে প্রবল স্রোত। আর আবহাওয়া খারাপ হলে দুর্যোগ দুর্বিপাক স্বাভাবিক ঘটনা। তখন প্রায়ই ঘটে নৌদুর্ঘটনা। অথচ এ রুটে চলাচলকারী স্পিডবোটে নেই জীবন রক্ষাকারী বয়া কিংবা লাইফজ্যাকেট। এসব জেনেও যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হয় নদী। প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত থাকলেও নেওয়া হয় না কার্যত কোনো ব্যবস্থা। অবৈধ এই স্পিডবোট ব্যবসাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। জমে উঠেছে রাজনৈতিক অনুসারীদের সিন্ডিকেট। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই বঞ্চনার শিকার। এদিকে স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শিবালয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে তাদের ব্যবসা চালাতে বাধা নেই।
সম্প্রতি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী স্পিডবোট নিবন্ধনের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে ‘নিবন্ধন সপ্তাহ’ পালনের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আরিচা ঘাট এলাকার স্পিডবোট মালিকদের নিবন্ধনের তাগিদ দিলেও তারা তা ভ্রুক্ষেপ করছেন না। এদিকে জানা যায়, কারো কারো মতে, প্রভাবশালী ঐ চক্রের সিরিয়ালের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যরা এ ব্যবসায় এসে এখন চরম বিপাকে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর আরিচা নদী বন্দর শাখার সহকারী পরিচালক (নৌ-নিট্রা) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিগত সময়ে একাধিকবার স্থানীয় ও পাবনা জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছি। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বারবার রুট পারমিট করার আশ্বাস দিয়েও তারা কথা রাখছেন না।
বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের মধ্যে আরিচা-কাজীরহাট নৌরুট ছাড়া সবস্থানে স্পিডবোট পরিচালনার রুট পারমিট রয়েছে।
