কচুরিপানা নিয়ে বিপাকে তাড়াশের কৃষক ও মত্স্যজীবীরা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৯

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

তাড়াশে কয়েক দফা বন্যায় তলিয়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ জমি এখন ছেয়ে যাচ্ছে কচুরিপানায়। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মত্স্যজীবী। এ পরিস্থিতিতে প্রতীকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টি এম আব্দুল্লাহেল বাকী।

সরেজমিনে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল, নওগাঁ ইউনিয়নের পংরৌহালী, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া, তাড়াশ সদর ইউনিয়নের উলিপুর, মাধাইনগর ইউনিয়নের সোনাপাতিল, বারুহাস ইউনিয়নের সরাবাড়ি এলাকায় দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। পুকুরগুলোর চিহ্ন দেখা যায় না। পানির ওপরে ভাসছে শুধুই কচুরিপানা। কয়েক জন কৃষক নৌকা দিয়ে নিজ নিজ জমি থেকে কচুরিপানা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক কুন্দইল গ্রামের নুরুল ইসলাম, পংরৌহালী গ্রামের আব্দুল জাব্বার, সোনাপাতিল গ্রামের ময়নুল হোসেন, হামকুড়িয়া গ্রামের ইসাহাক আলী, উলিপুর গ্রামের আব্দুল খালেক, সোরাবাড়ি গ্রামের আব্দুল গফুর জানান, এ বছর তিনবারে চার মাসের বন্যায় ফসলাদি সব পানিতে তলিয়ে গেছে। তার ওপর সবখানেই কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত বিস্তার লাভ করছে নতুন নতুন এলাকায়।

সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, উপজেলার মধ্যে সগুনার কুন্দইল এলাকাতেই কচুরিপানা বেশি। কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য বরাদ্দ চেয়ে শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুত্ফুননাহার লুনা জানিয়েছেন, এটা মূলত স্থানীয় সমস্যা। তবে বন্যার পানি কমে যাওয়ার সময় পানির সঙ্গে পতিত জমি থেকে কচুরিপানা এমনিতেই চলে যাবে। আর যে সব জমিতে এখনো ধান রয়েছে, সেখান থেকে কৃষকদের নিজ নিজ উদ্যোগে তা সরিয়ে দিতে হবে।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ মত্স্যজীবীদের পুকুর থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে নতুন করে যাতে কচুরিপানা ঢুকতে না পারে সে জন্য পুকুরের চারপাশে বাঁশ বা রশি দিয়ে বেড়া দিতে বলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম ইত্তেফাককে বলেন, কচুরিপানার আবির্ভাব স্থানীয় সমস্যা হলেও জনদুর্ভোগ এড়াতে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।