দুই বছরে গৃহহীন হয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবার

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৯

চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়ার ভাঙন

মিজানুর রহমান, চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা

চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার মুজিবনগর ও নীলকমল ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত দুই বছরে নদীভাঙনে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়েছেন। নদীগর্ভে চলে গেছে ২ হাজার একরেরও বেশি ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চলমান বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়ন দুটির ভাঙনকবলিত বাকি অংশও বিলীনের আশঙ্কা করছেন সেখানে বসবাসরত আরো প্রায় ২ হাজার পরিবার।

নীলকমল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৃদ্ধ নুরনবী (৬০) জানান, গত দুই বছরে তেঁতুলিয়ার ভাঙনে কৃষিজমি ও ভিটাবাড়ি বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে তিনি বেড়িবাঁধের ঢালে ঝুপড়ি তুলে বসবাস করছেন। দেলোয়ার হোসেন (৫৫) জানান, ভাঙনের কবলে থাকা অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমিতে ঝুপড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে তিনি বসবাস করছেন।

দেলোয়ারের মতো অনেক পরিবার উপায় না পেয়ে এখনো নদীর পাড়েই বসবাস করছেন। গৃহহীন এসব পরিবার তাদেরকে চরফ্যাশনে জেগে ওঠা নতুন চরে বসতি গড়তে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুজিবনগর ইউনিয়নের সাতটি ওয়ার্ড এবং নীলকমল ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ড ভাঙনের কবলে পড়েছে। এসব এলাকার দুটি আবাসন প্রকল্প, ২ হাজার একরের বেশি ফসলি জমিসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হাওলাদার জানান, তার ইউনিয়নের কাশেম মিয়ার বাজার সংলগ্ন গুচ্ছগ্রামের ৮০টি ঘরসহ আরো অনেক বসতবাড়ি ইতিমধ্যে তেঁতুলিয়াগর্ভে চলে গেছে। এসব পরিবারের কেউ বেড়িবাঁধের ঢালে আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রিত হয়েছেন।

চরফ্যাশনের পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহামুদ জানান, ভাঙন রোধে মুজিব নগর ইউনিয়নের বাংলাবাজার হতে বোয়ালখালী পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ এবং তীরভাঙন রোধে পাঁচ কিলোমিটার সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলা জরুরি। এছাড়া নীলকমল ইউনিয়নের ঘোষেরহাট থেকে কাশেম মিয়ার বাজার হয়ে পাঙ্গাসিয়া খাল পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এবং ঘোষের হাট হয়ে দক্ষিণে গাছির খাল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীতে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলা জরুরি। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেটি অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা যাবে।