বানারীপাড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে গৃহবধূর পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে বানারীপাড়া পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দুলাল বালীর বাসার সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূ হ্যাপীকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের হাওড়াবাড়ি এলাকার হাসান বালীর ছেলে ধান ব্যবসায়ী রাসেলের সঙ্গে একই এলাকার আ. রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে হ্যাপীর ১০ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রিমি (৯) ও রাতুল (৩) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। আহত হ্যাপীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হ্যাপীকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আস-ছিলেন রাসেল। তাকে সুচিকিত্সা না করায় স্বামীকে পুনরায় অনুরোধ করলেও তিনি চিকিত্সা করাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুই জনের মধ্য ঝগড়া হয়। ৩ অক্টোবর শনিবার সকালে অসুস্থ হ্যাপী শিশু সন্তান রাতুলকে নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হন। এ সময় রাসেল ও তার পিতা হাসান বালী হ্যাপীর পিছু নেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বানারীপাড়া পৌর শহরের হাইস্কুল সংলগ্ন দুলাল বালীর বাড়ির সামনের রাস্তায় রিকসার গতিরোধ করে। তারা হ্যাপীকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে বেদম মারধর করেন এবং স্বামী রাসেল ধারালো চাকু দিয়ে তার বাম পায়ের রগ কেটে ফেলেন। এ সময় হ্যাপী ও তার শিশু পুত্রের আর্তচিত্কারে পথচারীরা জড়ো হলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
এদিকে রাসেল দাবি করেন, তার স্ত্রী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত। শনিবার সকালে ব্যাগ ভর্তি কাপড় চোপড় নিয়ে হ্যাপী বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে তাকে ছেড়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে যাতে সুখের ঘর বাঁধতে না পারে সে জন্য পঙ্গু করার লক্ষ্যে পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন। যৌতুকের জন্য এই কাজ করেছেন এমন কথা অস্বীকার করেন। শনিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।
