উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ল বরিশাল শিল্পকলা অডিটোরিয়ামের সিলিং

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪২

উদ্বোধনের আগেই বেহাল বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম ভবন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে ভবনের অডিটোরিয়ামের সিলিং। এদিকে সিলিং ভেঙে পড়ার খবর জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত তা মেরামতের কাজ চলছে। গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, অডিটোরিয়ামের সিলিং ভেঙে পড়েছে। পুনরায় সিলিং খুলে আবার নতুন করে সিলিং লাগানোর কাজ চলছে।

২০১৫ সালে তত্কালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৭ সালের জুনে এর নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। উলটো নানা জটিলতায় নির্মাণকাজ            বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল ঘোষ ইত্তেফাককে জানান, আজ রবিবার বেলা ১১টায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন শেষে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইনফিনিটি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের জানান, করোনা মহামারির কারণে কিছু কাজের সমস্যা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের বাইরে সাজসজ্জাসহ কিছু বাড়তি কাজ করার জন্য বিলম্বিত হচ্ছে। ভেঙে যাওয়া সিলিং খুলে নতুন করে মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল শনিবার কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকরা সাংবাদিকদের জানান, ৫ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শেষ করে সবাই যে যার মতো করে চলে যাই। পরবর্তী সময়ে করোনার কারণে আর আসা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের পুনরায় সিলিং লাগানোর জন্য বলেছে। আমরা আবার নতুন করে সিলিং লাগানোর কাজ করছি।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের জুনে হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। পরে নির্মাণকাজে ধীরগতি ও স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের আমন্ত্রণে ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি হস্তান্তর করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেন প্রকল্প কর্মকর্তা। এরই মধ্যে নির্মাণ চলাকালে অডিটোরিয়ামের ডেকোরেশনের সিলিং ভেঙে পড়া ও কাজের ধীরগতিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান সাংবাদিকদের জানান, কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পিডি ও পিডব্লিউডিকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সিলিং ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমার জানা আছে। তবে এখনো আমরা কাজ বুঝে নেইনি, যার কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।