কওমি মাদ্রাসার সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও গুলশান আজাদ মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান। এ পদে ছিলেন মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফি। তার মৃত্যুর কারণে নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত করা হলো। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত তিনি এ পদে থাকবেন। গতকাল শনিবার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় বেফাকের মজলিসে আমেলার বৈঠকে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হন। এ বোর্ডের অধীন একটি মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান বলেন, আমেলার বৈঠকে প্রায় ১২৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আল্লামা মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ৬৬ ভোট। হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৫০ ভোট। আর হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী পেয়েছেন ৩ ভোট। তিন জন প্রার্থী ছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কেউ প্রার্থী ছিল না। সদস্যরা গোপন ব্যালটে নিজেদের চয়েজমতো ভোট দিয়েছেন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন বেফাকের সহসভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস। তার সঙ্গে ছিলেন খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের মাদ্রাসায়ে নূরে মদিনার মুহতামিম আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী ও ঢালকানগর মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা জাফর আহমদ। মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ বলেন, কওমি মাদ্রাসা সরকার স্বীকৃত সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি পদাধিকার বলে আল-হাইয়াতুল উলইয়ার সভাপতি হবেন। কারণ কওমি মাদ্রাসার যতগুলো বোর্ড আছে তার মধ্যে এ বোর্ডের অধীনে শতকরা ৯০ শতাংশ মাদ্রাসা রয়েছে। বাকি চার বোর্ডের অধীনে মাত্র ১০ শতাংশ মাদ্রাসা রয়েছে। তিনি বলেন, এখন আরো দুটি পদ নিয়ে আলোচনা চলছে। মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ বলেন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সিনিয়র সহসভাপতি ও মহাসচিব পদে ছিলেন। তিনি পদত্যাগ করায় ঐ পদ দুটি শূন্য হয়।
