ভোট জালিয়াতির অভিযোগে বেলারুশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধানসহ ৪০ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এই তালিকার বাইরে রয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। গত শুক্রবার ইইউ কার্যালয়ের এক জার্নালে একথা জানানো হয়েছে। ইইউর এই নিষেধাজ্ঞার জবাবে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো সরকারও পালটা পদক্ষেপ নিয়েছে। বেলারুশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে কয়েক জনের একটি তালিকা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে দেশটিতে থাকা সকল বিদেশি সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রকে বাতিল করেছে সরকার। দেশটিতে বিদেশি সাংবাদিকদের কাজ করতে হলে নতুন সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
ইইউ নেতারা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ৪০ জনের যে নাম প্রকাশ করেছে তাতে বেলারুশের র্যাপিড রেসপন্স ফোর্সের কমান্ডারসহ অন্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং জেল পরিচালকদের নাম আছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় এই কর্মকর্তাদের ইইউ দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ হওয়া ছাড়াও তাদের সম্পদ জব্দ হবে। গত মাসে বেলারুশের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ব্যাপক কারচুপি এবং বিরোধীদের গণবিক্ষোভের মুখে এর আগে বেলারুশের প্রেসিডেন্টসহ সাত জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য ও কানাডা সরকার।
এরআগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার দেশ এবং কানাডা সরকারের আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, বেলারুশের সহিংস অবস্থা এবং প্রতারণামূলক সরকার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের কোনো ধরনের সমর্থনই নেই। আমরা কোনো ভাবেই এই ধরনের সরকারকে সমর্থন করতে পারি না। বেলারুশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আমরা সব সময়ই সে দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকব। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কোয়িস ফিলিপ্পে বলেন, বেলারুশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কানাডা এবং যুক্তরাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করবে।
ইইউ বেলারুশের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল সেপ্টেম্বরের শুরুতেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার তালিকা চূড়ান্ত করা নিয়ে নেতাদের মধ্যে বিভক্তির কারণে এ পদক্ষেপ কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ব্রাসেলসে নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়ে অচলাবস্থার অবসান ঘটতে সক্ষম হন ইইউ নেতারা। বেলারুশে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ইইউ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বেলারুশে গত ৯ আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে লুকাশেঙ্কো ফের বিজয়ী হয়েছেন বলে ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিরোধী দলগুলো ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ভোটের ফল প্রত্যাহার করে ঐ দিন রাত থেকেই বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভ দমনে শুরু থেকেই বলপ্রয়োগ করে আসছে প্রশাসন। চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে। আন্তর্জাতিক নানা পর্যবেক্ষক দলও ভোটে অস্বচ্ছতার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। তবে বিরোধীদের সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন নির্বাচনে জয়লাভ করা লুকাশেঙ্কো। ভোটের স্বচ্ছতা প্রশ্নে গণবিক্ষোভ কিংবা ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আন্তর্জাতিক আহ্বান; সব কিছু উপেক্ষা করে টানা ষষ্ঠ মেয়াদের জন্য বেলারুশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন করে শপথ নিয়েছেন তিনি।—রয়টার্স ও বিবিসি
