হঠাত্ কমে গেল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৮

রেজাউল হক কৌশিক

করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন বেড়েছিল। চলতি বছরের জুলাই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হয়েছিল। ঐ মাসে ৬৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ তার পরের মাস আগস্টে লেনদেন ৪১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকায় নেমে আসে। অর্থাত্ আগের মাসের চেয়ে লেনদেন ৩৪ শতাংশ কম হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমন চিত্র দেখা গেছে।

অনলাইনে কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল প্রদান, চাকরির বেতনের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনে এখন মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করছে। এছাড়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সহজে টাকা পাঠানো, মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা যায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট বা কার্ড থেকে এখন গ্রাহকরা সহজে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা নিতে পারার মতো সুবিধা পাচ্ছেন। এসব সুবিধার ফলে প্রতিমাসেই বাড়ছিল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন। তবে আগস্ট মাসে হঠাত্ই লেনদেন অনেক কমে গিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের মাস জুলাইয়ে ঈদের মতো বড় অনুষ্ঠান থাকার কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন বেড়েছিল। আবার কয়েক মাস ব্যবসায়-বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর জুলাই মাসে লেনদেন বেড়েছিল। এদিকে আগস্ট মাসে সাধারণ মানুষের চলাচলও অনেক বেড়েছে। ফলে আগে ঘরে থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন করার প্রবণতা কিছুটা কম হওয়ায় কমেছে লেনদেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন কম হলেও বেড়েছে গ্রাহক ও এজেন্টের সংখ্যা। বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। ২০২০ সালের আগস্ট মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২৯ লাখ ৩৭ হাজারে। আগের মাস জুলাইয়ে ছিল ৯ কোটি ২৬ লাখ।

টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে থাকে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তথ্য বলছে, আগস্টে এমএফএস সেবার লেনদেনের সঙ্গে সেবায় সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা কমেছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। আগস্ট মাস শেষে এমএফএস সক্রিয় গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৮ হাজারে। আর আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯ হাজার ৪৩০ জনে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এমএফএসে গেল আগস্টে মোট ২৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৭৫টি লেনদেনের মাধ্যমে ৪১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। যা আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ কম। জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যা ছিল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। এ সময়ে উত্তোলন করেছে ১২ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। যা আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে টাকা জমার পরিমাণ কমেছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং উত্তোলন কমেছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ। জুলাইয়ে টাকা জমা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৮ কোটি টাকা এবং উত্তোলন করেছে ১৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে এমএফএসে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ১০৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ৩৮ শতাংশ কম। চলতি বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আলোচিত সময়ে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ ৭৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আগস্টে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৯০৮ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ মাসের ব্যবধানে ৯৮ শতাংশ কমে ১৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা।