কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং

ব্যয় নির্ধারণে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৩

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিংয়ের ব্যয় নিয়ে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাট কাস্টমস খাল থেকে শাহ আমানত সেতুর উজান পর্যন্ত সোয়া দুই কিলোমিটার নদী ড্রেজিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলে আসছে। বিশেষ করে ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপুল পরিমাণ পলিথিন কাপড়সহ বিভিন্ন কঠিন বর্জ্যের স্তর। ফলে ইতিপূর্বে মালয়েশিয়ান মেরিটাইম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এমএমডিসি) এবং পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সাইফ পাওয়ার টেক কর্তৃক ড্রেজিং কাজ শুরু করলেও প্রকৃত অর্থে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।

বুয়েটের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক ড্রেজিং কাজের ক্ষেত্রে উক্ত স্থানে বর্জ্যের স্তর এবং সাধারণ মাটি-বালুর স্তর যে পরিমাণ ধরা হয়েছে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাছাড়া ঠিকাদারগণ ইতিপূর্বে মূলত কার্টার সাকশান ড্রেজার দ্বারা ড্রেজিং করার চেষ্টা করায় সাফল্য পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এমনকি দেশের মধ্যে আনা সর্ববৃহত্ ৩২ ইঞ্চি কাটার সাকশান ড্রেজার দ্বারাও ঐ অংশের ড্রেজিং করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে সদরঘাট থেকে নদীর উজানে প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের বেশির ভাগ অংশ গ্রেব ড্রেজার ব্যবহার করে ড্রেজিং করতে হবে। অর্থাত্ বর্জ্যের চার/পাঁচ মিটার স্তর কাটার জন্য গ্রেব ড্রেজার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বিদেশ থেকে ঐ ধরনের ড্রেজার নিয়ে আসতে হবে। যা বাংলাদেশে নেই। বারবার কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে ড্রেজিংয়ের খরচ বাড়িয়ে তা অনুমোদনের জন্য পাঠায়।

প্রস্তাবিত আরডিপিপির ওপর গতকাল রবিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের জন্য ৬৯০ টাকা ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্ণফুলী নদীর ঐ অংশে মোট কাজের শতকরা ৭৮ শতাংশ বর্জ্যের স্তর এবং শতকরা ২২ শতাংশ সাধারণ মাটি-বালির স্তর হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে জানা যায়। অর্থাত্ শতকরা ৭৮ শতাংশ গ্রেব ড্রেজার কর্তৃক এবং ২২ শতাংশ কাটার সাকশান ড্রেজার দ্বারা খনন করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার আরিফুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, বৈঠকে ড্রেজিংয়ের ব্যয় এবং বর্জ্যের ও সাধারণ স্তর বিষয়ে আরো পরীক্ষার মাধ্যমে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ড্রেজিংয়ের দর কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কমান্ডার আরিফের অভিমত। ২০১৩ সালে কর্ণফুলী নদীর ঐ অংশে ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৯৮ টাকা। সে সময় ৩৬ লাখ ঘনমিটার মাটি-বালু খনন করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তা বাড়িয়ে প্রতি ঘনমিটারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২৭ টাকা। সে সময় মাটি ও বালি উত্তোলনের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৪৩ লাখ ঘনমিটার। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক দেওয়া প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ঘনমিটার ৬৯০ টাকা। এক্ষেত্রে মাটি-বালু উত্তোলনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫২ লাখ ঘনমিটার। বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী গত সাত বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় সাড়ে চার গুণ।

গতকাল অনুষ্ঠিত আরডিপিপির বৈঠকে নৌ পরিবহন সচিব ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শেখ আবুল কালাম আজাদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রফিক আহমদ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্যবৃন্দসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।