চট্টগ্রামে মা-ছেলে হত্যা

অবৈধ সম্পর্কের জেরেই খুন

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৭

চাঞ্চল্যকর মা-ছেলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফারুক গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের দ্বিতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফারুক আদালতে জবানবন্দি দেন। সূত্র জানায়, আদালতে আসামি ফারুক বলেন, ২০১৩ সালে নিহত গুলনাহার বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে কথিত ভাইবোনের সম্পর্কের কথা বলা হলেও তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতেন। গুলনাহার বেগম ফারুককে বলেন, আমার স্বামী নেই। চল আমরা এক সঙ্গে বসবাস করি। অবিবাহিত ফারুক তার কথায় রাজি হয়ে নগরীর শুলকবহর এলাকায় বাসা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতে থাকেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক হলে বাড়ির মালিক তাড়িয়ে দেন। পরে তারা নগরীর আরেক এলাকায় বাসা নিলে সেখানেও আশপাশের লোকজন গুলনাহারকে খারাপ মেয়ে হিসেবে সন্দেহ করে। পরবর্তী সময় তারা পুরাতন চান্দগাঁও থানাসংলগ্ন এলাকায় বাসা নেয়।

ফারুক আদালতে স্বীকার করেন, তারা খাবারের ব্যবসা করতেন। গুলনাহার তাকে অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করতে থাকলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি হতো। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ঝগড়ার এক পর্যায়ে গুলনাহার তাকে ছুরি নিয়ে মারতে আসে। এ সময় দুই জনের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পিছনে থাকা ছেলে রিফাতের গলায় ছুরি লাগে। এরপর ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে গুলনাহার বেগমকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে গুলনাহার বেগম ও তার ছেলে রিফাত মারা যায়।

পরে খাগড়াছড়িতে পালিয়ে গিয়ে গ্যারেজে চাকরি নেয় ফারুক। কিছুদিন পর চট্টগ্রামে ফিরে এসে বিভিন্ন মাজারে আত্মগোপন করে। পরে আবার ঢাকায় গিয়ে একটি গ্যারেজে চাকরি নেয়। সম্প্রতি ফারুক চট্টগ্রামে ফিরে এলে বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর আকবর শাহ থানার পাক্কা রাস্তার মাথা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারের পর ফারুক র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সে রাগের মাথায় গুলনাহার বেগমকে খুন করেছে। খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় ছেলে রিফাতকেও খুন করা হয়। এ ঘটনায় নিহত গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ূরী বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় ফারুককে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই সজল কান্তি দাশ বলেন,  ফারুক রিমান্ডে দোষ স্বীকার করে। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এখন আমরা স্বীকারোক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখব।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও থানাসংলগ্ন এলাকায় নৃশংসভাবে খুন হন গুলনাহার বেগম ও তার ছেলে রিফাত।