বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচার কার্যক্রম রায়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। এতে মিন্নিসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং চার জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিচার কার্যক্রম বরগুনার শিশু আদালতে চলমান।
আজ সোমবার আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের মধ্যে যুক্তিতর্ক, তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে এ মামলার মূল জেরা শুরু হবে। টানা তিন দিন এই জেরা শেষে বিচারক রায়ের দিন ধার্য করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে দুটি ভাগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ জন শিশু।
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু আসামিরা হলো রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজী, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, আবু আবদুল্লাহ রায়হান, ওয়ালি উল্লাহ অলি, চন্দন সরকার, নাইম, তানভীর, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নেয়ামত, প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক, মারুফ বিল্লাহ, রাতুল সিকদার ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।
গত বুধবার ঘোষিত রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হূদয় ওরফে টিকটক হূদয় (২২), মো. হাসান (১৯) ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)।
অন্যদিকে এই মামলায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন হলেন মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স একাডেমির সামনে শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে আহত করে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। বিকেলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মারা যান রিফাত। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
