বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন :শি জিনপিং

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৭

বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশের কৌশলকে আরো সুসংহত করতে এবং যৌথভাবে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের নির্মাণ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল রবিবার আবদুল হামিদকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় শি এই মন্তব্য করেন।

শি জিনপিং তার বার্তায় বলেন, চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরো দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশ সর্বদা একে অপরকে সম্মান জানিয়ে এসেছে, পারস্পরিক রাজনৈতিক বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে, যা দুই দেশের জন্যই সুস্পষ্ট সুবিধা বয়ে এনেছে। তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পরে চীন-বাংলাদেশ উভয়েই নানা সংকটের মুখোমুখি হলেও মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একে অপরকে সহায়তা করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে।

পালটা বার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক দ্রুত বিকাশ লাভ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে, যার প্রতি বাংলাদেশ বেশ গুরুত্ব দেয়। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।একই দিনে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও অভিনন্দনবার্তা বিনিময় করেছেন। লি তার বার্তায় বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর করতে এবং চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের জন্য দুই দেশ ও তাদের জনগণের উন্নতির জন্য উত্সাহী। অন্যদিকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের সময়ের পরীক্ষিত বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা থেকেই গড়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের ধারাবাহিক সমর্থনের কথা, অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন। মিয়ানমারের গৃহহীন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করায় চীনের প্রশংসাও করেন তিনি।

এদিকে গতকাল ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় চীনা প্রেসিডেন্ট ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। ঐ বার্তায় শেখ হাসিনা ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘নয়া চীন যেমন দেখেছি’ বই দুটির কথা স্মরণ করেন। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে প্রত্যাশা করেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছর পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন চীনকে আলাদা বার্তা দিয়েছেন।