ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যা মামলায় তার বাসার দুই গৃহকর্মী রিতা আক্তার ওরফে স্বপ্না ও রুমা ওরফে রেশমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অধ্যক্ষকে হত্যার পাশাপাশি তার বাসায় চুরির অপরাধে ঐ গৃহকর্মীদের সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এই হত্যাকাণ্ডকে নির্মম, জঘন্য, পৈশাচিক, নৃশংস, বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করা হয়। বিচারক বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েই এ ধরনের অপরাধ প্রতিহত করা সম্ভব। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা কোনোভাবেই অনুকম্পা পেতে পারে না।
এদিকে এই মামলার রায়ে গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সকলকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। এ সময় বিচারক বলেন, এমন নির্মম ঘটনা এড়াতে এসব নির্দেশনা প্রতিপালন করা উচিত।
গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর এলিফেন্ট রোডের নিজ বাসায় খুন হন অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী। বাসায় থাকা ২০ ভরি সোনা, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি করতে গিয়ে আসামিরা মাহফুজাকে নাকে-মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ইসমত কাদির গামা থানায় মামলা করেন। ঐ বছরের ২১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন নিউমার্কেট থানার এসআই আলমগীর হোসেন। অভিযোগপত্রে রেশমা ও স্বপ্নাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হলেও রুনু বেগম নামে এক জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
গতকাল রায় শুনে কাঠগড়ায় থাকা দুই আসামি কান্না জুড়ে দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মাহফুজার ছেলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের কর্মকর্তা সানিয়াত ইসমত অমিত, তার স্ত্রী নাহরীন চৌধুরী। তারা বলেন, রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
