নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৪ আক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দুটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন-বাদল (২২), মো. রহিম (২০), আবুল কালাম (২২), ইসরাফিল হোসেন (২২), সাজু (২১), সামছুদ্দিন ওরফে সুমন (৩৯), আবদুর রব ওরফে চৌধুরী মিয়া (৪৮), আরিফ (১৮) ও রহমত উল্যা (৪১)। আরও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ ওই এলাকার শেখ আহমদ দুলালের ছেলে আবদুর রহিম ও মৃত আবদুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহ এবং র্যাব মামলার প্রধান আসামি মধ্যম একলাশপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে বাদলকে ঢাকা ও দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু এ মামলায় দেলোয়ারকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রকাশ পায়। ফলে আসামির তালিকায় তার নাম না থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার ওই নারী দেলোয়ারের নাম উল্লেখ না করায় মামলার আসামি করা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানিয়েছে এ ঘটনর মূল ইন্ধনদাতা দেলোয়ার। সে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।’
আরও পড়ুন: ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল
মামলার এজাহারে নির্যাতনের শিকার ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিন পর বাপের বাড়িতে তার স্বামী তার সাথে দেখা করতে যান। রাত ৯টার দিকে শয়ন কক্ষে স্বামী-স্ত্রী অবস্থান করছিলেন। এ সময় আসামিরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে নিয়ে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে আসামিরা তাকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং আসামিরা তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় ও মোবাইল ফোনে ভিডিওচিত্র ধারণ করে। নির্যাতনকালে তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা কাউকে কিছু না জানানোর জন্য তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে শাসায়। তাকে নির্যাতন করে চলে যাওয়ার পর তিনি ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এস্টেটে তার এক বোনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে থাকা অবস্থায় আসামিরা মোবাইল ফোনে তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে রবিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারণকৃত ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বোনের বাসা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পুলিশ। রাতে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাবা বলেন, ‘ঘটনার সাথে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় এতেদিন ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পায়নি।” এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে করেছে সকাল থেকে জেলা শহর মাইজদীতে নারী অধিকার জোট, সমস্ত নোয়াখালীবাসী, ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, ফ্রেন্ডস গ্রুপ, এক চিলতে হাসির জন্য, ইয়ং স্টার সোশ্যাল অর্গানাইজেশন, ব্লাড হান্ডার গ্রুপ ও ব্লাড ফোরাম, সমাজতান্ত্রিক দলসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে, টাউন হল চত্বরে ও প্রধান সড়কে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
ইত্তেফাক/এএএম
