হা হা হো হো

দ্রুতগামী ট্রেন

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০১

আজকের দুনিয়ায় এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে ট্রেন নেই। আর সেই ট্রেনে চেপে ভ্রমণ করেনি এমন মানুষও কম আছে। যাদের অর্থের কোনো হিসাব নেই তাদের প্রসঙ্গে বলা যায় ভালোবাসা, ধোঁয়া ও টাকাপয়সা চাপা দিয়ে রাখা যায় না। কোনো না কোনো ভাবে বের হবেই। প্রচুর অর্থসম্পদের মালিক অনেকেই শখ ও আনন্দ খুঁজে বের করার মধ্যে ডুবে থাকেন; তাঁদের পাগলামির শেষ নেই। একটা ঘটনা বলি—

নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের তিন বন্ধু একবার ঠিক করল তারা ব্যতিক্রমধর্মী ‘ফানি’ একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। যে কথা সেই কাজ!

প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে ছ’মাস কেটে গেল। লাগবেই তো—এলাহি কাণ্ড। অংশগ্রহণকারী বাছাই, ভিসা, টিকেট, পাঁচতারা হোটেল, যানবাহন, হল বুকিং, প্রতিযোগিতার সরঞ্জাম, নিমন্ত্রণপত্র, আপ্যায়ন সব মিলিয়ে হৈহৈ কাণ্ড! আর চ্যাম্পিয়নের জন্য আছে এক মাসব্যাপী দ্রুতগামী ট্রেনে সেনজিয়ানেয়ার ১০টি দেশে দোভাষী নিয়ে আনন্দ ভ্রমণের দুর্লভ সুযোগ। এই প্রতিযোগিতা হবে নরওয়ের বিশ্ববিখ্যাত ওসলো সিটি হলে। সকল ভাষাভাষীর জন্য যুগপত্ভাবে নিজ ভাষায় অনূদিত হবে এবং যার যার হেডফোনে মনিটার করতে পারবে। প্রতিযোগীদের মানদণ্ড বিচারের জন্য লেটেস্ট অটো ডিজিটাল ‘রেটিং মিটার’ যা সর্বোচ্চ ১০০ পর্যন্ত নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে।

প্রতিযোগিতার দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই টান টান উত্তেজনা। প্রতিযোগিতার স্থল আকর্ষণীয় করে সাজানো। সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন হলো ডিজিটাল রেটিং মিটার ক্লক। দর্শক পরিপূর্ণ সিটি হল। হাতে হাতে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের ছবি সম্বলিত বহুরঙা ফোল্ডার।

প্রতিযোগীদের ফলাফল তাত্ক্ষণিকভাব রেটিং মিটার ১০০-র মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর জানান দেবে। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দর্শকঠাসা হল হাসি-আনন্দে মাতোয়ারা। প্রতিযোগিতা শেষ পর্যায়ে; বাকি আছে তিনজন—সুইডিশ, জাপানিজ ও বাংলাদেশি।

আনন্দ যেন চরম আকার ধারণ করেছে। মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন সুইডিশ খ্যাতনামা এক ব্যক্তি। করতালিতে হল ফেটে পড়ল। তিনি শুরু করলেন—সুইডেন থেকে কোপেনহেগেনের মধ্যে চলাচলকারী সবচেয়ে দ্রুতগামী ২০০ কিলোমিটার টিলটিং ট্রেন। এত বেগে চলে যে কাত হয়ে যায়—এক কান কাটা ছাগলের মতো কাত হয়ে ছুটে চলে। যাত্রীদের কেউ কেউ মাথা ধরে অস্থিরতায় ভোগেন। তাঁর বক্তব্য নিষ্প্রাণ। রেটিং শো করল ৫০। ‘সত্যি কথার যেন ভাত নেই’। এরপর মঞ্চে এলেন জাপানি প্রতিযোগী। তিনি বলতে শুরু করলেন—জাপানের দ্রুতগামী ট্রেন রকেট এক্সপ্রেস। এই ট্রেন যখন ফুল স্পিড দেয় তখন বিকর্ষণ চুম্বকশক্তির জোরে লাইন থেকে এক ফুট ওপরে উঠে যায়। তাঁর বাগাড়ম্বরে রেটিং মিটার প্রাপ্ত নম্বর শো করল ৯০।

শেষে এলো বাংলাদেশের গুল বাহাদুর। বিচিত্র বেশভুষা গজগমন আর চাহনিই বুঝিয়ে দিচ্ছে একটা কিছু বাকি আছে বটে। কিন্তু সাফল্য এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। কারণ এর মধ্যে মার্কস নব্বই উঠে গেছে। তিনি শুরু করলেন—একবার শ্বশুরবাড়ি থেকে ছুটতে ছুটতে আধা সেকেন্ড দেরিতে ফেনী পৌঁছেছি ততক্ষণে ট্রেন ফেল। ছুটে গেলাম স্টেশন ম্যনেজারের কাছে। জিজ্ঞেস করলাম, ট্রেন কি চলে গেছে? হাঁ বাচক উত্তর দিলেন। রেললাইনের দিকে হাত দেখিয়ে বললাম, তাহলে ওটা কী যায়। তাত্ক্ষণিক উত্তর দিলেন, ট্রেন চলে গেছে, কিন্তু দ্রুতগামী ট্রেনের ছায়া তাকে অনুসরণ করতে না পারায় এখন ছুটে চলেছে পরের স্টেশনে থেমে থাকা ট্রেনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য। কী সাংঘাতিক ট্রেন রে বাবা। ছায়াই তাকে ধরতে পারে না!

ধ্রুম ...বিকট শব্দ করে রেটিং মিটার ১০০ ছাড়াতেই বিস্ফোরণ ঘটে...

অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য