একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ক্লাস

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৯

সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স, কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন ইত্যাদি শব্দের মতো অনলাইন ক্লাসও এখন সুপরিচিত, বহুশ্রুত ও বহুউচ্চারিত। করোনাকালে ইহার উপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীলতা দিনদিন বাড়িতেছে। অনলাইন ক্লাসকে কেন্দ্র করিয়া কোথাও কোথাও ইন্টারনেট লাইন নেওয়ার হিড়িক পড়িয়া গিয়াছে। করোনা মহামারির আবর্তে থাকা অসুস্থ পৃথিবীটা কখন সুস্থ হইয়া নিজের চিরাচরিত ছন্দে ফিরিয়া আসিবে তাহা কেহ হলফ করিয়া বলিতে পারিতেছেন না। যতদিন না পৃথিবী করোনামুক্ত এবং সুস্থ-স্বাভাবিক হয়, ততদিন ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করিয়া অনলাইন ক্লাসের ভিত শক্ত করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। ল্যাপটপ বা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে জুম পদ্ধতিতে চলিতেছে অনলাইন ক্লাস। শুধু ক্লাস নহে, পরীক্ষাও নেওয়া হইতেছে। টেলিভিশন ও রেডিওর মাধ্যমেও ক্লাস নেওয়া জনপ্রিয় হইয়া উঠিতেছে। এমনকি শিক্ষকদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য চালু হইয়াছে হটলাইন। ফলে এই ধরনের অনলাইন বা ডিজিটাল ক্লাস একদিন শ্রেণিকক্ষের বিকল্প হইয়া উঠিবে কি না—তাহা লইয়াও চলিতেছে চিন্তাভাবনা। এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ক্লাস শুরু হইয়াছে। উন্নত বিশ্বের দেশসমূহে অনেক পূর্বেই অনলাইন ক্লাসের প্রচলন হইয়াছে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেও ইহা এখন এক নূতন বাস্তবতা।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ইন্টারনেট-সুবিধা এখনো সুলভ নহে। যেইখানে শতভাগ বিদ্যুত্সুবিধা নিশ্চিত হয় নাই, সেইখানে অনলাইন ক্লাসের সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করা যায় না। অনেকের আবার ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন ক্রয়ের সামর্থ্যও নাই। কোথাও কোথাও আবার ইন্টারনেটের স্পিড খুবই স্লো, বাফারিংয়ের কারণে গাছে উঠিয়াও অনলাইন ক্লাস করিতে হয়। এই সকল বিড়ম্বনার পরও বিশেষজ্ঞরা অনলাইন ক্লাসকে মন্দের ভালো হিসাবেই বিবেচনা করিতেছেন। কেননা শিক্ষার্থীরা আর কতদিন লেখাপড়ার সহিত সম্পর্কহীন অবস্থায় থাকিবে? ইতিমধ্যে অনেক প্রাইভেট-পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি প্রাইভেট স্কুলকলেজে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা নেওয়া হইয়াছে। এখন সরকারি-বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ক্লাস চালু করিতে বাধ্য হইয়াছে সরকার। তবে সুযোগ ও সক্ষমতা না থাকিবার কারণে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণে বঞ্চিত হইয়া বিশেষত শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বৈষম্য তৈরি হইতেছে, তাহা কীভাবে দূর বা হ্রাস করা যায়, তাহা লইয়া আমাদের এখন হইতেই ভাবিতে হইবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৪ হাজার, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ১৭ হাজার আর কলেজ রহিয়াছে প্রায় আড়াই হাজার। সকল মিলাইয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। ইহার মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে অল্পসংখ্যক একটি অংশই অনলাইনে শিক্ষার সুযোগ পাইতেছে। টিভি দেখিবার সুযোগ পাইতেছে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

অতএব একাদশ বা বিশ্ববিদ্যালয়সহ যে কোনো স্তরে অনলাইন ক্লাস হইতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করিতে হইলে পশ্চাত্পদ শিক্ষার্থীর জন্য আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করিতে হইবে। তাহাদের ব্যাপারে হইতে হইবে যথাসম্ভব সহানুভূতিশীল ও আন্তরিক। এই জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধাসহ ইন্টারনেটের দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতের নাগালে থাকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল সেট বা ডিভাইসের দামে ছাড় দেওয়া বা ঋণসুবিধা প্রদানের কথাও চিন্তাভাবনা করা যাইতে পারে।