করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অসমতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ। গতকাল সোমবার ফাইট ইনইকুয়ালিটি অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘বর্তমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব’ শীর্ষক অনলাইন ন্যাশনাল পিপলস অ্যাসেম্বলিতে এই আহ্বান জানায় নারী প্রগতি সংঘ।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক ও নারীনেত্রী রোকেয়া কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘করোনাকালীন বৈষম্য ও অসমতা’ বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন অক্সফামের পলিসি, অ্যাডভোকেসি, ক্যাম্পেইন এবং কমিউনিকেশন প্রধান এস এম মঞ্জুর রশিদ। করোনাকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এম আকাশ, করোনাকালীন স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএমএ-এর সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, করোনাকালীন জেন্ডার পরিপ্রেক্ষিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আইনুন নাহার, করোনাকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের ভূমিকা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক ডা. মুশতাক হোসেন।
রোকেয়া কবীর বলেন, আমরা সবসময়ই দেখে আসছি যে, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি, তাদের জীবন জীবিকা ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হতে শুরু করেছে।
এস এম মঞ্জুর রশিদ বলেন, ‘দেশের জনগণের গড় আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।’ এম এম আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার জনগোষ্ঠী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও লিঙ্গ নির্বিশেষে বৈষম্যের শিকার। ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতির বিপর্যয় ঘটে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
অধ্যাপক আইনুন নাহার বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে, ঠিক একইভাবে বাল্য বিবাহের সংখ্যাও বাড়ছে, বাড়ছে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ।
