ভিয়েতনামের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৩

এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম তাদের মুদ্রার মান ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে রাখার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিনিধি বা ইউএসটিআর (ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে দেশটিতে পণ্য রপ্তানিতে বাড়তি শুল্কের মুখে পড়তে পারে ভিয়েতনাম। বিশ্ববাণিজ্যে বর্তমানে ভিয়েতনামকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। ভিয়েতনামের পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি শুল্ক আরোপ করলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় কিছুটা সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করেন রপ্তানিকারকরা। কেননা চীনের পণ্যের মতো ভিয়েতনামের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বাংলাদেশমুখী হতে পারেন। অবশ্য অর্থনীতিবিদরা এই ইস্যুতে এখনই আশাবাদী হওয়ার বদলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির চাইতে রপ্তানি বেশি করে ঐসব দেশের মুদ্রার মানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৮ সালে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে ৩৯ বিলিয়নই ছিল ভিয়েতনামের পক্ষে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ভিযেতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে টায়ার রপ্তানির ক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুরো রপ্তানি খাত নিয়েই তদন্ত নামছে ইউএসটিআর। ভিয়েতনাম যদি তার মুদ্রার মান কমিয়ে রাখে, এর অর্থ হলো রপ্তানিতে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা (ডং) অপেক্ষাকৃত বেশি পাবেন রপ্তানিকারকরা। ফলে তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে। এতে একই পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় শিল্প বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। অন্যদিকে আমদানিতে বাড়তি স্থানীয় মুদ্রা পরিশোধ করতে হয় বিধায়—ভিয়েতনামের আমদানিকারকরা হয়তো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে নিরুত্সাহিত হবেন। অর্থাত্ মুদ্রার মান কৃত্রিমভাবে অবমূল্যায়ন করে রাখার ফলে উভয় দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।

পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান ইত্তেফাককে বলেন, তদন্তে এটি প্রমাণ হলে যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের মতো ভিয়েতনামের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বাংলাদেশমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অবশ্য সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইত্তেফাককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করে প্রমাণ পেলেও বাড়তি শুল্ক আরোপ করবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আবার আরোপ করলেও তা সব পণ্যে না করে যদি নির্দিষ্ট কোনো পণ্যে (টায়ার) করে, তাতে বাংলাদেশের খুশি হওয়ার সুযোগ নেই। বরং বাংলাদেশ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে (আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি) ফলে এই ইস্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।