নওগাঁর আত্রাইয়ের কাশিয়াবাড়ী ১০ ভেন্ট রেগুলেটরটি দীর্ঘদিন সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় এই গুরুত্বপূর্ণ রেগুলেটরটি ভেঙে যেতে পারে। যার ফলে রাণীনগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সব গ্রাম ও তার আশপাশের অঞ্চল এবং আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া, সাহাগোলা ও বিশিয়া ইউনিয়নের সব গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানবক্স সরদার বলেন, রাণীনগর ও আত্রাই এই দুই উপজেলার মানুষের সুরক্ষায় দুই উপজেলার মাঝখানে এই রেগুলেটরটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রায় ৫০ বছর পার হলেও কোনো সংস্কার কিংবা মেরামতের ছোঁয়া স্পর্শ করেনি এটিতে। যার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে এসেছে। তাই শুকনো মৌসুম এলে দ্রুত এটিকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একাধিক বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেগুলেটরটির অধিকাংশ গেটের দরজা মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। ১০টি গেটের মধ্যে দুই-তিনটি গেট সচল থাকলেও অন্য সবগুলো অকেজো হয়ে রয়েছে। পানির অধিক চাপ সহ্য করার মতো কোনো অবস্থাই অবশিষ্ট নেই। চলমান চতুর্থ দফার বন্যায় রেগুলেটরের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বালুভর্তি বস্তা দিয়ে প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি বন্যায় প্রায় এক সপ্তাহ আত্রাই-পতিসর তথা আত্রাই-বগুড়ার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম, হানিফ মণ্ডলসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, যখন পানির চাপে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় তখন বস্তা দিয়ে ক্ষণিকের জন্য তা রক্ষার চেষ্টা করা হয়। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল বলেন, চলতি বন্যা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে রেগুলেটরটি ওভার টপিং হয়ে উইং ওয়ালের পাশে ধস নামা শুরু করার আগেই আমরা সিনথেটিক ব্যাগ ডাম্পিং করে রেগুলেটরটিকে রক্ষা করেছি। আর ইতিমধ্যে বগুড়া যান্ত্রিক বিভাগ থেকে রেগুলেটরটি পরিদর্শন করে গেছে।
রেগুলেটরটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করার জন্য আমরা বাজেট চেয়েছি, বাজেট পেলে শুষ্ক মৌসুমে আমরা কাজ করব। দুই উপজেলার লাখ লাখ মানুষ ও ফসলের মাঠকে রক্ষার্থে এটি ভেঙে দ্রুত নতুন করে নির্মাণ করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, আমরা রক্তদহ-লোহাচুরা পুনর্বাসন প্রকল্প নামে ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করেছি যার কারিগরি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আবার পুনর্গঠিত করা হচ্ছে। উক্ত ডিপিপি পাশ হলেই আমরা কাশিয়াবাড়ীতে নতুন করে রেগুলেটর নির্মাণ করব।
