পাকা হয়নি কড়িয়াটার দুই কিলোমিটার রাস্তা!

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৯

তিন দিকে বিল। এক দিকে খাল। এ খালবিল পেরিয়ে সর্পিল রাস্তা ঢুকেছে কড়িয়াটা গ্রামে। গ্রামের ১৫০ বছরের পুরোনো মাটির রাস্তাটি নির্মাণ করেন হেমনগরের জমিদার। তারপর ব্রিটিশ, পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসনের ২৪ বছর। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছর। কিন্তু  সেটি কাঁচাই রয়ে গেছে। গ্রামের একমাত্র কাঁচা রাস্তা নিয়ে এভাবেই খেদোক্তি করেন মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান। গোপালপুর উপজেলার সর্বশেষ গ্রাম কড়িয়াটা। উত্তরে ধনবাড়ী এবং উত্তর-পশ্চিমে সরিষাবাড়ী উপজেলা। গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। ফারায়জী আন্দোলনের সূতিকাগার কড়িয়াটায় হাজী শরীয়তউল্লাহ ও দুদু মিয়ারা বহুবার এসেছেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি ছিল। সাত মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি এ গ্রামে। মুক্তিযোদ্ধা হেদায়েত হোসেন বাদশা জানান, একাত্তরে যে রাস্তা ধরে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন সেই রাস্তা এখনো তেমনটিই। কোনো সরকারই রাস্তা পাকাকরণে মনোযোগ দেয়নি। মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম জানান, গ্রামে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসা। একটিতে ভোট কেন্দ্র। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা বর্ষাকালে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। হাটবাজার, স্কুলকলেজ বা মাদ্রাসায় যাতায়াত, অসুখে-বিসুখে উপজেলা হাসপাতালে যাতায়াত অনেক কষ্টের। মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান জানান, ৫০ বছরে উন্নয়ন বলতে দারোগাবাড়ীর খালে একটি কালভার্ট। সাত মুক্তিযোদ্ধারা মিলে রাস্তা পাকাকরণে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলজিইডির নিকট বহুবার ধরনা দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জানান, দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হলেও তা যে শহর কেন্দ্রীক কড়িয়াটা এর প্রমাণ। কেউ হঠাত্ অসুস্থ হলে রাস্তার দুরবস্থায় গ্রামে ডাক্তার আসতে চায় না। মালকোঁচা দিয়ে জলকাদা মাড়িয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা হাসপাতালে যাওয়া কষ্টের। কয়দিনইবা বাঁচবো। আমাদের অন্তিম ইচ্ছার পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হুমায়ুন বেঙ্গল জানান, দেশে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চারণভূমি কড়িয়াটা অবহেলিত। সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলা জানান, সুষম উন্নয়ন না হওয়ায় ১৫০ বছরের প্রাচীন জনপদের এমন বেহালদশা। হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, গতবার রাস্তায় ৩ লাখ টাকার মাটি ফেলেন। কিন্তু এবারের অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রাস্তার এখন কাহিলদশা। এ রাস্তা পাকা হলে সাত মুক্তিযোদ্ধার অন্তিম ইচ্ছা যেমন পূরণ হবে তেমনি আশপাশের দরবারপুর, পাঁচপোট, ভেঙ্গুলা পূর্বপাড়া, কেরামজানি ও চাতুটিয়া গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বাইপাস রোড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। গোপালপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, রাস্তাটি পাকা করার ব্যবস্থা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ছোট মনির জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই সড়কটি পাকাকরণ হবে।