হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের গবেষণায় তিন বিজ্ঞানীর নোবেল জয়

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৬

লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের অন্যতম কারণ ‘হেপাটাইটিস সি’ ভাইরাস আবিষ্কার করে বিশ্বে রক্তবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য চিকিত্সায় নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাদের মধ্যে হার্ভে জে অলটার ও চার্লস এম রাইস মার্কিন বিজ্ঞানী এবং মাইকেল হাউটন ব্রিটেনের বিজ্ঞানী। হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে প্রতি বছর ৭ কোটি মানুষ আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৪ লাখের মতো। গতকাল সোমবার নোবেল কমিটি তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করে। গতকাল থেকেই নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হলো।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ‘হেপাটাইটিস এ’ এবং ‘হেপাটাইটিস বি’ ভাইরাস আবিষ্কার ছিল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এ দুই ভাইরাস সংক্রমণের পরীক্ষা ও চিকিত্সা পদ্ধতি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই রক্তবাহিত এক প্রকারের হেপাটাইটিস এর ব্যাখ্যা মিলত না চিকিত্সক-বিজ্ঞানীদের কাছে। ‘হেপাটাইটিস সি’ সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। ক্রনিক হেপাটাইটিসের কারণ জানা, হেপাটাইটিস সি সংক্রমণ চিহ্নিত করার জন্য রক্ত পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যা কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে। অস্ট্রেলিয়ায় কারবি ইনস্টিটিউটের ভাইরাল হেপাটাইটিস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের প্রফেসর গ্রেগরি ডোরে বলেন, এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসমুক্ত বিশ্ব গড়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে তা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

৮৫ বছরের হার্ভে জে অল্টার আমেরিকার ক্লিনিক্যাল সেন্টারের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে সিনিয়র ইনভেস্টিগেটর হিসেবে কাজ করছেন। চার্লস এম রাইসের জন্ম ১৯৫২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে। ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমেরিকার রকফেলার ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব হেপাটাইটিস সি-তে নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানী মাইকেল হাউটন ১৯৭৭ সালে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পিএইচডি করেন। তিনি বর্তমানে আলবার্টা ইউনিভার্সিটির লি কা শিং অ্যাপ্লায়েড ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদে কর্মরত। —রয়টার্স ও ডেইলি মেইল