ভিডিও ভাইরালের পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টনক নড়েছে :হাইকোর্ট

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৯

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সংঘটিত বর্বর ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো অবহেলা আছে কি না—তা অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত ঐ কমিটিতে জেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা ও চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের অধ্যক্ষকে রাখা হয়েছে। আদেশ প্রাপ্তির পনেরো দিনের মধ্যে অবহেলার বিষয়ে অনুসন্ধান করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেগমগঞ্জের ঐ নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণ করতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঐ ভিডিওটি পেনড্রাইভ বা সিডিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি এর একটি কপি রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে আদালতে দাখিল করতে বিটিআরসিকে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়। আদালত বলেছে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই প্রশাসনের টনক নড়েছে।

আদেশে ঐ বর্বর ঘটনায় করা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতিত নারী ও তার পরিবারকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এ বর্বর ঘটনা যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে না আসত তাহলে এত বড় অপরাধের কথা গোপনই থেকে যেত। ৩২ দিন আগে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিছু দুষ্কৃতকারী। কিন্তু এতদিনেও কেন তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের নজরে এলো না? তাহলে কি ঐ সংঘটিত ঘটনার পেছনে যারা দায়ী তাদের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির প্রভাব ছিল? আদালত আরো বলেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন এ ধরনের বর্বর ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় তখন বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

এদিকে হাইকোর্টের আদেশে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটিকে সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করতে জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে।

নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দৈনিক ইত্তেফাকসহ পাঁচটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জামিউল হক ফয়সাল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অপসারণের জন্য আদালতের নির্দেশনা চান আইনজীবীরা। আদালত বলেছে, ৩২ দিন পর ঘটনাটি প্রকাশ পেয়েছে, এতদিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী করেছে?

অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ কী করেছে? ৩২ দিনেই তারা ঘটনাটি জানতে পারেনি, না জেনেও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। সেটা খুঁজে বের করা উচিত। এছাড়া শুনানিতে আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নিলু, জামিউল হক ফয়সাল ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী অংশ নেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়। আদালত বলেছে, এ ঘটনায় মানবাধিকার বা নারীবাদী সংগঠনগুলো এগিয়ে আসেনি।