‘বিচারহীনতায় একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা’

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪০

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনার বিচার না হওয়ায় একের পর এক ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা। সারা দেশে সংঘটিত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচারের দাবিতে গতকাল সোমবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভ করে ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন। এদিকে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী।

শাহবাগের বিক্ষোভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, এখন আর সময় নেই, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। ঐক্যবদ্ধ লড়াই প্রয়োজন রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য। আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকার ফলে একটি দুর্বৃত্তায়নের শ্রেণি তৈরি হয়েছে। নুর বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে, কিন্তু এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। প্রত্যেকটা দল ক্ষমতায় এসে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে গেছে। প্রত্যেকেই ভিন্নমত দমন করার জন্য গুম-খুনের রাজনীতি করেছে।

রাজু ভাস্কর্যে ছয় শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসূচি:

গতকাল বেলা ৩টায় ঐ ছয় শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচিতে বসে। শিক্ষার্থীরা হলেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিম উদি্দন হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ইমাম হাসান, বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী শকিবুল ইসলাম (সুমন), লিমন শিকদার, এসএম হলের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ, হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান ও সোয়েব আহাম্মেদ সজিব। ইমাম হাসান বলেন, ধর্ষকদের দ্রুত বিচার কার্যকর করা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা নিবৃত করা সম্ভব নয়। া।

ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশ

বেলা ১১টায় শাহবাগে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের দলীয় কর্মীরা এসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত দুই মাসে সরকারদলীয় কর্মীরা কমপক্ষে ১৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্যই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির বিবৃতি

বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। দেশের ৬৬টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম এই সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। কমিটি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। 

ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে :হেফাজতে ইসলাম

চট্টগ্রাম অফিস জানান, নোয়াখালীর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েজে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, সম্প্রতি দেশে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়েছে। নোয়াখালীর ঘটনা আইয়্যামে জাহেলিয়াতকে হার মানিয়েছে।