ওসমানীনগরে ধর্ষকের বাবা-মা ও চাচা কারাগারে

ধর্ষণের অভিযোগে বিভিন্নস্থানে মামলা, গ্রেফতার

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০৫

বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় রাসিক কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিলেটে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে দুই জন গ্রেফতার এবং ওসমানীনগরে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের বাবা-মা ও চাচাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে পাঁচ জন। গাজীপুরের শ্রীপুরে স্কুলশিক্ষার্থী ও গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

রাজশাহী : বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলেজছাত্রীর বড় বোনের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার রাসিক প্রকৌশল বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর তাজ মুরাদ লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, ধর্ষণের শিকার ঐ কলেজছাত্রী এক বছর আগে রাসিকে বিশেষ কাজের জন্য যান। সেখানে লিটনের সঙ্গে তার পরিচয়ের এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভনে লিটন একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। সর্বশেষ গত শনিবার ঐ শিক্ষার্থীর বড় বোনের বাসায় বিয়ের কথাবার্তা বলার জন্য যায়। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীরা তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে মতিহার থানা পুলিশে খবর দিলে এসআই সুকান্ত তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

ওসি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের (ওসিসি) ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেট : এবার সিলেটে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ ধর্ষক ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানায়, নগরীর শামীমাবাদ এলাকার একটি বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন ঐ গৃহবধূ। শনিবার সন্ধ্যায় বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে দিলওয়ার তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ঐ নারীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। পরে ধর্ষণের শিকার  বাদি হয়ে সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ওসমানীনগর (সিলেট) : ওসমানীনগরে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে মাসের পর মাস ধর্ষণ ও তার গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে দায়েরকৃত মামলায় ধর্ষকের বাবা-মা ও চাচাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। সোমবার সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে অভিযুক্তরা জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। তবে এর আগে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ধর্ষণের শিকার  কিশোরীর মামাতো ভাই উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের রাতখাঁই গ্রামের মজনু মিয়ার পুত্র রায়হান মিয়াকে অপ্রাপ্ত বয়স দেখিয়ে নারী ও শিশু আদালতে জামিন চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন। সোমবার কারাগারে প্রেরিত অভিযুক্তরা হলো—রায়হানের পিতা মজনু মিয়া, মাতা হামিদা বেগম ও চাচা কামরু মিয়া।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী হুসাইনুর রহমান লায়েছ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত রায়হান বয়সে শিশু দেখিয়ে জামিন পেলেও হতদ্ররিদ্র পরিবারের নির্যাতনের শিকার কিশোরীর স্বামী ও তার গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতির জন্য আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) : চট্টগ্রাম থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে (১৬) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার রাতে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ধর্ষণের শিকার কিশোরী, ধর্ষক ও সহযোগীদের আটক করে পুলিশে সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ জনকে থানায় নিয়ে যায়।  গ্রেফতারকৃতরা হলো : বসুরহাট-চট্টগ্রাম রুটের বসুরহাট এক্সপ্রেসের হেলপার ইমন, সাইফুল ইসলাম, সিএনজিচালক জামাল উদ্দিন পিয়াস ও নসিমনচালক মহি উদ্দিন।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ধর্ষক ইমন ও তার অপরাপর সহযোগীরা সাইফুলের বাড়িতে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে ধর্ষণের শিকার কিশোরী অভিযোগে জানায়। ধর্ষণের শিকার কিশোরী (১৬) চট্টগ্রামের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় চাকরিরত। তার গ্রামেরবাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার  উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে বলে জানা যায়। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর অভিযোগে ধর্ষক ইমন বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ সুবাদে রবিবার রাতে তাকে চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট বাসস্টান্ডে নিয়ে আসে। সেখান থেকে ইমনের সহযোগী সিএনজিচালক জামাল উদ্দিন পিয়াস তাকে ও ইমনকে মুছাপুরে সাইফুলের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় সাইফুলের বাড়িতে সবাই মিলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) : কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ঘটনার শিকার ঐ স্কুল ছাত্রীর বাবা। জানা যায়, কোটালীপাড়ার মেধাবিকাশ ডিজিটাল স্কুলের নবম শ্রেণির ঐ ছাত্রী শনিবার সকালে প্রাইভেট পড়ে স্থানীয় চৌধুরীর হাটে কলম কিনতে যায়। এ সময় পূর্ণবর্তী গ্রামের মহসিন হাওলাদার খনুর ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র আলী হোসাইন ও একই গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার ঠান্ডার ছেলে মাসুদ হাওলাদার তাকে ভয় দেখিয়ে ধারাবাশাইল গ্রামে ঠান্ডার মাছের ঘেরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর ও একপর্যায়ে জোরপূর্বক আলী হোসাইন তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার বন্ধু মাসুদ হাওলাদার মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ধারণ করে এবং পরবর্তীতে কথা না শুনলে এই দৃশ্য ফেসবুকে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে গতকাল সোমবার কোটালীপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে আলী হোসাইনের পিতা মহসিন হাওলাদার খনু বলেন, আমার ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁসানো হয়েছে।

শ্রীপুরে স্কুলছাত্রী ও গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

এ দিকে শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, শ্রীপুরে এক স্কুলছাত্রী ও গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে রবিবার রাতে পৃথক মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার সকালে দুই জন ভিকটিমকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায় শ্রীপুর থানাপুলিশ। শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে মো. রুমান মিয়া নামের অটোরিকশা চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী (১৩) স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবারের অভিযোগ, চার মাস আগে রুমান মিয়া তার ছোট্ট মেয়ের মাধ্যমে ঐ স্কুল শিক্ষার্থীকে তাদের বাড়িতে  ডেকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ডাক্তারী পরীক্ষা করালে সে  চার মাসের অন্তঃস্বত্তা বলে চিকিত্সক জানান।

অপরদিকে এক গৃহবধূকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রেখে ১৫ দিন ধরে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। জানা যায়, উপজেলার মুলাইদ গ্রামের মো: রইস উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হাসান উক্ত গৃহবধূকে (২৫) ফুঁসলিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে একটি হোটেলে অবরুদ্ধ রেখে ধর্ষণ করে। পরে গৃহবধূকে পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়ার গভীর জঙ্গলে ফেলে চলে যায়। স্থানীয়  লোকজন উদ্ধার করে তাকে থানায় নিয়ে আসে।

কুষ্টিয়া :কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার অন্তর্গত পোড়াদহ এলাকায় এক ছাত্রী (১৩) মাদ্রাসা সুপার কর্তৃক উপর্যুপরি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। রবিবার ভোর ৫টা ও রাত ৮টার দিকে ঐ ছাত্রী দুই দফা ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। ধর্ষণ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুর করেছে। এদিকে ঘটনার পর  থেকে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় ঐ কিশোরীর পিতা আফু বাদী হয়ে গতকাল সোমবার মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

রাউজান (চট্টগ্রাম) :১১ বছরের শিশুকে ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীল গ্রামের নন্দনকানন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সাধন বড়ুয়া একই এলাকার মৃত যামিনী বড়ুয়ার পুত্র। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা সুকুমার বড়ুয়া ৫ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাউজান থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ৯ (১) ধারায় মামলা দায়ের করেন।