রামগতিতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক বিধবা (৩৮) নারী। নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে রামগতি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার রাতে উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর কলাকোপা এলাকায় নিজ বসতঘরে ওই নারী গণধর্ষণের শিকার হন। এঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের চরকলাকোপা এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো. সোহেল (২৭) এবং একই এলাকার ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে মো. জামাল (২৭)। এর আগে রবিবার সকালে হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় ওই বিধবা নারীকে নিজ বসতঘরের পেছন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ায় পর একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে চরকলাকোপা এলাকার ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করে আসছেন।
এ সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে যুবক তাকে বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করত। এনিয়ে সম্প্রতি মারামারির ঘটনায় ওই বিধবা গুরুতর আহত হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
এতে ক্ষীপ্ত হয়ে করিম, সোহেল, জামাল, আরিফ ও আলাউদ্দিন নামে পাঁচ যুবক শনিবার রাতে ঘরে ঢুকে বিধবাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ধর্ষকরা হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে তাকে বসতঘরের পেছনে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, এঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রামগতি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সোহেল ও জামাল নামে দু’জনকে আটক করা হয়। পরে সোমবার বিকালে ওই ধর্ষিতা বিধবার দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
