মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দরিবিলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসিয়ার রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মসিয়ার ওই গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের পুত্র। ঘটনার পরে বিরোধী পক্ষের কমপক্ষে ২৫-৩০ টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।
গ্রামবাসী জানিয়েছেন, সামাজিক দলাদলি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাইরপোর দরিবিলা গ্রামের নজিরদ্দি মিয়া ও গোলাম রসুল মাস্টারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। নজিরদ্দি মিয়া সংশ্লিষ্ট শ্রীকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এম মোস্তাসিম বিল্লাহ এর নেতৃত্বে এবং গোলাম রসুল মাস্টার সাবেক চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া ওরফে কুটি মিয়ার নেতৃত্বে সামাজিক গ্রাম্যদল পরিচালনা করেন বলে জানা যায়।
ওই গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ আবু বক্কার জানান, সোমবার দুপুরে গোলাম রসুল মাস্টারের সমর্থক শাহাদত মিয়ার ছেলে ওলিউর রহমান বিরোধী নজিরদ্দি মিয়ার পক্ষের একটি মেয়েকে উত্যক্ত করে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার ওইদিন বিকেল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে নজিরদ্দি মিয়ার সমর্থক মসিয়ার রহমান বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী শ্রীকোল বাজারে সার কিনতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে দরিবিলা গ্রামের শেষপ্রান্তে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের আয়াত আলী, মতিয়ার, শিহাব, শহিদুল ও তুহিনসহ একদল লোক তাকে ধরে নিয়ে পাকা রাস্তার ওপর কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এরপর তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের ডা. পরিক্ষিত পাল তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পরে নিহত মসিয়ার রহমানের পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, শিহাব, হাসেম, হবিবর, মজিবর, আযাত আলী, ইনছার আলী, রজবসহ অন্তত ২৫-৩০ টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলার ৩ নং শ্রীকোল ইউনয়নের চেয়ারম্যান এম এম মোন্তাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম বলেন, ‘আমি এখন ঢাকায় অবস্থান করছি। তাই এ বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারছি না।’
অপর দিকে মতামত জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও গোলাম রসুল মাস্টারের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পরে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মো. আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, ‘এলাকায় এখন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।’ আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
ইত্তেফাক/এএএম
