মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, চৌহালি উপজেলার রেহাই পুকুরিয়ার পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি সড়ক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে খাসপুকুরিয়া উত্তর, খাসপুকুরিয়া দক্ষিণ, রেহাই পুকুরিয়া, চরনাকালিয়া, চরবিনানই, চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়সহ প্রায় আট গ্রামের বিভিন্ন এলাকা। ইতিমধ্যেই এসব গ্রামের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে।
এ বিষয়ে বীরবাউনিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম, শাকপাল গ্রামের আইয়ুব আলী, খাসপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক, মেটুয়ানি গ্রামের গোলাম মোস্তফা, বাঘুটিয়া গ্রামের আবু মুছা, চর সলিমাবাদ গ্রামের কামরুল ইসলাম, ঘুষুরিয়া গ্রামের সেলিম হোসেন, সম্ভুদিয়া গ্রামের সালাউদ্দিন জানান, এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই চৌহালি উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এরই মধ্যে শতাধিক বাড়িঘর, ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। এদিকে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচ ঠাকুরীতে ভাঙন শুরু হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে পাঁচ ঠাকুরী এলাকার একটি জামে মসজিদ যমুনার ভাঙনের কবলে পড়ে। এই ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়ে আশপাশের আরো চার/পাঁচটি গ্রামের সহস্রাধিক বাড়িঘর। সম্প্রতি উপজেলায় ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ কর্মসূচিও পালন করেছে।
এ বিষয়ে চৌহালি উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহার সিদ্দীকি বলেন, রেহাই পুকুরিয়ার পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া কয়েক বছর ধরে চৌহালি উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের গ্রামগুলো যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ভাঙনের ফলে এ উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চৌহালি অংশের দায়িত্বে) সিরাজুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে ভাঙন রোধে ঐ এলাকায় জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলার কাজ চলছে।
