তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
দফায় দফায় বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে তাড়াশে গোখাদ্যর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে তাড়াশে। অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে গবাদি পশুর দামও পড়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারি ও গৃহস্থরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাড়াশের আট ইউনিয়নে ছোটবড় ৫০০ গরুর খামার রয়েছে। খামারি ও গৃহস্থের গরুর সংখ্যা ৯৪ হাজার ৫৭৫টি, মহিষ ১ হাজার ৬৬৮টি, ঘোড়া পাঁচটি, ছাগল ৮১ হাজার ৬৪৯টি আর ভেড়ার সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৩টি। সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যায় রোপা আমন ধান ও পতিত ঘাসের জমি সব ডুবে গেছে। অতি বৃষ্টিতে কারো বাড়িতে জমিয়ে রাখা খড়ও পচে গেছে। অনেকে খাল, বিল, পুকুর, ডোবা, নালা থেকে কচুরিপানা কেটে গবাদি পশুর খাবার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন। কেউ আবার চড়া দামে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ থেকে খড় কিনে খাওয়াচ্ছেন। আবুল কালাম, শিশির আলমসহ একাধিক খামারি বলেন, ‘এ বছর দফায় দফায় বন্যায় রোপা আমন ধান ডুবে গেছে, ডুবে গেছে গো-চারণভূমিও। এতে গোখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে পশু পালন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিক্রি করতে গেলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, গবাদি পশুকে খড়ের পাশাপাশি কচুরিপানা খাওয়ানো যেতে পারে। তবে পরিমাণে কম। কারণ এতে পশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ধানের কুঁড়া খাওয়ানো যেতে পারে। আর প্রোটিনের অভাব পূরণে ছোলা, খইল ও ভুসি খাওয়াতে হবে। সর্বোপরি খামারি ও গৃহস্থদের উচিত হবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরে গবাদিপশু বিক্রি করা।
