চট্টগ্রামের নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির দণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ। তাদের আপিল খারিজ করে এ রায় দিয়েছে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলো তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, মোহাম্মদ আজম ও আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই জামায়াত-শিবিরের কর্মী। স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারেই থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
অধ্যক্ষ গোপালকে হত্যার দায়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল বিচারিক আদালত। আপিলে ঐ ফাঁসির রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করে। ঐ আপিলের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ গতকাল এই রায় ঘোষণা করে। এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট অমিত দাসগুপ্ত বলেন, আপিল বিভাগ রায়ের আদেশের অংশ ঘোষণা করেছে। এতে আসামিদের আপিল খারিজ করে দিয়ে তাদের সাজা সংশোধন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে। এর ফলে আসামিরা কারাগারের কনডেম সেল থেকে এখন সাধারণ সেলে স্থানান্তর হবে।
২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরিকে (৬০) জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা চট্টগ্রাম মহানগরীর জামাল খান রোডের বাসায় গুলি করে হত্যা করে। ঐ দিনই নিহতের স্ত্রী উমা মুহুরি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার বিচার শেষে নাসির ওরফে গিট্টু নাসির, আজম, আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর এবং তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত।
