‘ধর্ষণ সকল দেশেই হয়’—এমন মানসিকতা যতদিন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা বহন করবেন ততদিন দেশ এই সহিংসতা থেকে মুক্ত হবে না। ধর্ষণ-সহিংসতা বন্ধে সংসদে জবাবদিহির ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। প্রশাসন ও রাজনীতির ছত্রছায়ায় অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে, তাদের কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। এ সময় ‘গর্জে ওঠো, রুখে দাঁড়াও, ধর্ষণসহ সব প্রকার অনাচার থেকে সমাজ বাঁচাও’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ সব প্রকার সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির সময়ে সমগ্র দেশ আজ ধর্ষকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। নারীরা যখন তাদের মেধা, শ্রম ও নিজ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন, তখন ক্রমবর্ধমান হারে সহিংসতার ঘটনা নারীদের এগিয়ে চলায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় যে বিভিন্ন অপরাধী বাহিনী গড়ে উঠছে এগুলো উত্খাত করা না হলে সহিংসতার ঘটনা বাড়তেই থাকবে। এ সময় প্রশাসনের নিশ্চুপ অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনায় তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি নাজরানা হক হীরা, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, ব্র্যাকের বিমান হালদার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ফাহমিদা জামান রনি প্রমুখ। প্রসঙ্গত, ৬৬টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম এই সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
