কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের দুই গ্রুপের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় চার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এ সময় আরো অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এক আনসার সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, লম্বাশিয়া ক্যাম্পের সশস্ত্র মুন্না গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড গিয়াস উদ্দিনকে তার প্রতিপক্ষ বাহিনী হত্যা করে। এ সময় গিয়াসকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা-বাবাও প্রাণ হারান। উত্তেজিত রোহিঙ্গারা মুন্না গ্রুপের আরেক সদস্যকে জবাই করে হত্যা করে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১০টা) ক্যাম্প ও উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গিয়াস উদ্দিন, তার বাবা-মা ও নিহত অন্য ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে পাঠায়। কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজাও স্বীকার করেছেন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছেন।
রফিকুল ইসলাম আরো জানান, উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র নতুন ও পুরাতন রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সংঘর্ষের ঘটনায় চার রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জন গুলিবিদ্ধ ও এক জনকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে গত ৪ ও ৫ অক্টোবর দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন রোহিঙ্গা নিহত হন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে র্যাব অভিযান চালিয়ে ৯ রোহিঙ্গা ডাকাতকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে।
