মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস চক্রে পাঁচ ডাক্তার জড়িত

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:২৪

মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে অন্তত পাঁচ জন চিকিত্সক ও তিনটি কোচিং সেন্টারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার পলাতক আসামি স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেফতারের পর গতকাল মঙ্গলবার সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সাবেক পরিচালক আবদুল হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তিনি বলেন, গত ৫ অক্টোবর বনশ্রী এলাকা থেকে সালামকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৫ সালে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। আবদুস সালামকে ২০০৬-২০০৯ সাল পর্যন্ত এক দফা প্রশ্ন ছাপার কাজ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তার পরও কীভাবে সালাম আবার প্রেসের কাজ ফিরে পেলেন, সে সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে যেসব ডাক্তারের সংশ্লিষ্টতা এসেছে তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সাইফুল ইসলাম কমল নামে একজনকে হত্যা মামলায় আসামি সালামের ব্যাংকে টাকা জমানোর চেয়ে জমি কেনার নেশা ছিল জানিয়ে আশরাফুল বলেন, জসিমের ৩৮টি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি ২৭ লাখ ও তার স্ত্রীর ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব টাকা মেডিক্যালে ভর্তির সময়টিতে ব্যাংকে জমা হত। অন্য সময় লেনদেন খুব কম ছিল। এর আগে জসিমের কাছ থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক, ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়।

এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত আরো ১০ জন গ্রেফতার হয় জানিয়ে এই সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে  মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই জসিমউদ্দীন ভূঁইয়া, জাকির হোসেন এবং এস এম সানোয়ার হোসেন নামে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরো সাত জনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতরা সবাই পরস্পর আত্মীয়। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, জসিমের খালাত ভাই সালামই প্রশ্ন ফাঁসের হোতা। তার মাধ্যমেই প্রশ্ন বের হতো এবং জসিম তার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিত। এই সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। পাঁচ-ছয় জন ডাক্তারের নাম আসে যারা মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সঙ্গে জড়িত। তিন-চারটি  কোচিং সেন্টারের নামও আসে যাদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র চলে যেত। সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, মেডিক্যাল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে, যাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।