তিন রাত হাসপাতালে কাটিয়ে নাটকীয়ভাবে হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজের মাস্ক খুলে ফেলেন, যেখানে সম্প্রতি অনেক কর্মকর্তা এবং উপদেষ্টা কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তিনি মার্কিনীদের বলেছেন, কোভিডকে ভয় পাবেন না। এটাকে আপনাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে দেবেন না। খবর বিবিসির আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, নির্বাচনি প্রথম বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘জোকার’ বলা ঠিক হয়নি। তাকে জোকার না বলে জোকারের মতো আচরণ হচ্ছে এমনটি বলা যেতে পারত। গত ৫ অক্টোবর ফ্লোরিডার মিয়ামিতে এনবিসি টিভির লেস্টার হল্টের সঙ্গে এক টাউন হল সভায় জো বাইডেন এ কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের ফিরে আসার সময় যা হলো
সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল ছাড়ার আগে আমেরিকানদের এই রোগ নিয়ে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে টুইট করেন ট্রাম্প। আর হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি বলেন, ২০ বছর আগে যেমনটা বোধ করতাম এখন তার চেয়ে অনেক ভালো অনুভব করছি। টুইটেও তিনি বলেন, শিগগিরই প্রচারণায় ফিরব। নীল রঙের স্যুট, টাই এবং মাস্ক পরে মেরিল্যান্ডের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টার থেকে বেরিয়ে আসেন ট্রাম্প। সে সময় বারবার হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করছিলেন এবং খুলছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল পর্যন্ত ৭৪ লাখ মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ। সপ্তাহান্ত জুড়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সম্বলিত বিবৃতি প্রকাশের পর ট্রাম্পের অসুস্থতা নিয়ে গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। সে সময় এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, প্রেসিডেন্ট আপনি কি একজন সুপার সংক্রমণ বিস্তারকারী? সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। এর পর হেলিকপ্টারে করে হোয়াইট হাউজে এসে পৌঁছান ট্রাম্প। এর পরে তোলা ছবিতে তাকে হোয়াইট হাউজের ট্র্যুম্যান ব্যালকনিতে দেখা যায়। সেখানে থাম্বস-আপ এবং সামরিক স্টাইলে স্যালুট দেওয়ার আগে নিজের মাস্ক খুলে ফেলেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পর এক টুইটে নিজের ফিরে আসার ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন তিনি।
আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তাও রেকর্ড করেন যেখানে ট্রাম্প সবাইকে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তাদের বলেন, আপনারা একে পরাজিত করতে যাচ্ছেন। আমাদের সবচেয়ে ভালো চিকিত্সা সরঞ্জাম রয়েছে, সবচেয়ে ভালো ওষুধ রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখন আমি ভালো আছি। হয়তো আমি রোগটি থেকে নিরাপদ, আমি আসলে জানি না।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রতিষেধক আসাটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র,’ যদিও মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলেছে যে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের আগে কোনো প্রতিষেধক আসবে না।
চিকিৎসকরা কী বলছেন?
হোয়াইট হাউজের চিকিৎসক নেভি ক্যাডার শন কনলি সোমবার বিকালে বলেন যে, ট্রাম্প হয়তো এখনো ঝুঁকি মুক্ত নন। কিন্তু তিনি বলেন যে, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং উন্নতি তার বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য উপযোগী যেখানে তিনি সব সময় বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু ট্রাম্প সর্বশেষ কবে কোভিড নেগেটিভ পরীক্ষা করিয়েছেন কিংবা তার চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি ডা. কনলি। রোগীর গোপনীয়তা সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্টের নিউমোনিয়ার জন্য স্ক্যান নিয়েও বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। হোয়াইট হাউজের চিকিত্সক নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প স্টেরয়েড ডেক্সামেথাসেন এবং দিনে তিনবার করে রেমডিসিভির অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সেবন করছেন। ট্রাম্প নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর জন্য ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নে ডা. কনলি বলেন, আমরা দেখব।
ইত্তেফাক/এসি
