পুরান ঢাকার লালবাগ থানা এলাকার ৬ বছরের শিশু শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান রিফাতকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আরিফুর রহমান জুয়েলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি ইকবাল মুন্সি ও হাবিবুর রহমানকে খালাস দেয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। জুয়েলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপশি ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
২০১৫ সালের ৯ জুন রিফাত নিখোঁজ হন।রিফাতের বাবা তার সন্ধানে এলাকায় মাইকিংসহ বিভিন্ন ভাবে হারানো পুত্রকে খোঁজাখুজি করেন। এরপর ওই দিন রাতেই লালবাগ থানায় একটি ডাইরি করেন তার বাবা রফিকুল ইসলাম। পরদিন তার বাবার ফোনে অজ্ঞাত পরিচয় একজন ফোন দিয়ে তার ছেলেকে ফিরে পেতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এরপর বাদী বিষয়টি র্যাব ও লালবাগ থানা পুলিশকে জানান। র্যাব ও পুলিশের শিখানো কৌঁশল মতে, বাদী অপহরণকারীদের সাথে আলোচনা করে আজিমপুর মেটার্নিটি হাসপাতালের ময়লা ফেলার জায়গায় ৪০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন।
আশেপাশে সাদা পোশাকে র্যাব-পুলিশ সদস্যরা ওৎ পেতে থাকেন। এক পর্যায়ে অপহরণকারীর সদস্য আরিফুর রহমান ওইস্থান থেকে টাকা নিয়ে পালানোর সময় র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য মতে ইকবাল মুন্সি ও হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে র্যাব।
আসামিদের দেয়া তথ্য মতে, ২০১৫ সালের ১১ জুন গুদারাঘাটের পাশে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে শিশু রিফাতের বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার করা হয়।
২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।চার্জশিটে সাক্ষী করা হয় ৩৫ জনকে। আদালতে বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য দেন ২০ জন। বাসস
ইত্তেফাক/কেকে
