গাজীপুরের শ্রীপুরে সব ধরনের স্থায়ী ও অস্থায়ী শিল্প গড়ে উঠছে। ফলে পানি ও সামগ্রিক পরিবেশদূষণের মতো বায়ুদূষণও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জেনারেটরের এক্সস্ট বা জেনারেটর থেকে উত্পাদিত ধোঁয়া, ব্যাটারি ফ্যাক্টরিতে পোড়ানো সিসা মেশানো ধোঁয়া, কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সালফার, ক্লোরিন, নাইট্রাইট, নাইট্রো অক্সাইড মেশানো ধোঁয়া, নতুন বিল্ডিং তৈরিতে ইট-বালি ভাঙার কারণে উত্পত্তি ধুলা ও ময়লা, কয়লা উত্পাদনে কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়া, স্টিল মিলের গরম ও দূষিত ধোঁয়া, ইটভাটার ইট পোড়ানো ধোঁয়া, কেমিক্যাল মিশ্রিত অপরিশোধিত পানি থেকে উত্পত্তি ধোঁয়া, ডাইং-প্রিন্টিংয়ের ভিওসি মিশ্রিত ধোঁয়া বা এক্সস্ট রাস্তায় ধুলো দূষণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির ফুয়েল বার্নিং বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। যে সব কারখানায় বেশি তাপে কাজ হয়, সেখানে বায়ুদূষণ হয়। পর্যাপ্ত গাছ নেই বলে এমনিতেই দূষণ বেশি। এই দূষণ বন্ধে জেনারেটরের এক্সস্ট পয়েন্ট নির্দিষ্ট উচ্চতায় নেওয়া, ব্যাটারি ফ্যাক্টরি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং সব ধরনের বায়ু বহিঃমুখে ফিল্টারের ব্যবস্থা থাকা। নতুন প্রযুক্তির ইটভাটা নির্মাণের পাশাপাশি কয়লা পোড়ানো সমস্ত ফ্যাক্টরি বন্ধ করা জরুরি।
এমনিতেই বায়ুদূষণের প্রভাব আমাদের ওপর অনেক বেশি, তারপর এ প্রভাবের সঙ্গে কেমিকালিজম যুক্ত হওয়ার ফল ভয়াবহ। শ্রীপুরে কিছু কিছু গাছে আগের চেয়ে ফল আসা কমেছে। পাখি ও প্রাণীর বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে এবং মানুষের ঘুমের ব্যাঘাতে উচ্চ রক্তচাপ, ব্রেন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের মাত্রা বাড়ছে। অন্য অঞ্চলের চেয়ে শ্রীপুরের শিশুদের বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতা বেশি। তাই দ্রুত শ্রীপুরের বাতাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। এতে করে সক্স, নক্স এসপিএম বা অন্য কোনো উপাদান বাতাসে বেশি আছে কি না তা চিহ্নিত করে বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর
