শ্যামাসুন্দরী খাল ধুঁকছে

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৩

২৭ সেপ্টেম্বর রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে রংপুরে দেখা দেয় ব্যাপক জলাবদ্ধতা। রংপুর জেলা শহরের শ্যামাসুন্দরী খাল দিয়ে পানি প্রবাহের কথা থাকলেও দখল-দূষণের কবলে পড়ে পানি নামেনি, ফলে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা ও বন্যা। শ্যামাসুন্দরী নদী না খাল তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে! তবে এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে, দখলে-দূষণে শ্যামাসুন্দরী এখন ধুঁকছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন নালা-নর্দমার লাইন গিয়ে মিশেছে শ্যামাসুন্দরী খালে। এছাড়া আশপাশের বাসাবাড়ির আবর্জনা-বর্জ্য ফেলে ফেলে খালটিকে বানানো হয়েছে ভাগাড়। আবার বাসাবাড়ির টয়লেটের লাইন জুড়ে দেওয়া হয়েছে এই খালের সঙ্গে! খালটি মশা-মাছির আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর আগেও শ্যামাসুন্দরী খাল এমন ছিল না। পুরো বছর ধরেই এখানে পানির প্রবাহ থাকত। মাছ পাওয়া যেত। মানুষজন নদীতে গোসল করত। শুকনো মৌসুমে শ্যামাসুন্দরী খাল শুকিয়ে যায়। কারণ এর উত্সমুখ ঘাঘট নদে পানি থাকে না। শ্যামাসুন্দরী খালের বিভিন্ন অংশ দখলের কারণে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। খালটির সংস্কার ও সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন সময় অর্থ বরাদ্দ থাকলেও পরিকল্পিতভাবে কাজ না হওয়ায় তা খুব একটা কাজে আসেনি। বাস্তবে শ্যামাসুন্দরীর উন্নয়ন নয়, সংস্কার কাজে জড়িতদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে! যদিও খাল পুনঃখনন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। খালটির গুরুত্ব অনেক। নগরের পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মশার অত্যাচার দূর করতে সর্বোপরি নাগরিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় শ্যামাসুন্দরী খাল অত্যন্ত জরুরি। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সাধন সরকার, রংপুর