স্থানীয় নেতাদের আশ্রয়ে বেপরোয়া দেলোয়ার

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৬

নোয়াখালীর মাঠ পর্যায়ের পুলিশের প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অলিখিত নির্দেশনায় দেলোয়ার বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এক সময় নোয়াখালীতে দেলোয়ার বিএনপি নেতাদের ফুটফরমাশ খাটলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে রাতারাতি ক্যাডারে পরিণত হয়। স্থানীয় এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের হাতে ফুল দিয়ে দেলোয়ার আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি পায়। এক পর্যায়ে দেলোয়ার বেগমগঞ্জ ও মাইজদীতে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলের নেতাদের ছবি দিয়ে দেলোয়ার পোস্টার টানানোর পর তার পরিচিত গোটা নোয়াখালীতে ছড়িয়ে পড়ে। দিনের পর দিন বেগমগঞ্জ থানা এলাকায় দেলোয়ার বাহিনীর নারী নির্যাতন, টেন্ডারবাজি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করেছে। পুলিশ বলছে, তারা জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের আশীর্বাদ নিয়ে কাজ করে। ওদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে গেলে পুলিশের ওপর মহলে ফোন দেয়। তখন মধ্যস্থতা করা ছাড়া পুলিশের কোনো উপায় থাকে না। তাই তাদের দ্বারা অপরাধ ঘটলে পুলিশই বলে দেয়, ‘সমঝোতা করে নিতে’।

নির্যাতিত নারীর ধর্ষণ মামলা : দেলোয়ার হোসেন ও তার প্রধান সহযোগী আবুল কালামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নির্যাতিত ঐ নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে নির্যাতনের শিকার ঐ নারী অভিযোগ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার ঘটনার আগে দেলোয়ার ভিন্ন ভিন্ন সময় এবং ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় তাকে দুই বার ধর্ষণ করেছিলেন। 

এর আগে রবিবার রাতে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং ভিডিওচিত্র ধারণের ঘটনায় জড়িত ৯ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

আরো তিন জন গ্রেফতার : নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে আরো দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, নূর হোসেন রাসেল (৩০) ও সোহাগ (২৬)। এছাড়া গতকাল রাতে র্যাব কুমিল্লা থেকে দেলোয়ারের প্রধান সহযোগী কালামকে গ্রেফতার করেছে।

তিন জনের রিমান্ড : সোমবার গ্রেফতারকৃত মামলার ৫ নম্বর আসামি সাজু এবং মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত রাসেল ও সোহাগকে গতকাল বুধবার দুপুরে জেলার ৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল মাশফিকুল হক শুনানি শেষে আসামি সাজুকে ছয় দিন  এবং রাসেল ও সোহাগকে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

উত্তাল ঢাবি : একই দাবিতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনভর বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। শাহবাগে বাম সংগঠনের পাশাপাশি বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে টিম পজিটিভ বাংলাদেশ ব্যানারে সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এসময় চলচ্চিত্র অভিনেতা মোহাম্মদ ওমর সানি এবং অভিনেত্রী আরিফা পারভীন জামান মৌসুমী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ক্যাম্পাসের বহিরাগত বেশকিছু শিক্ষার্থী দফায় দফায় বিক্ষোভ করেছে।

এদিকে তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী।