জিনোম রূপান্তরের পদ্ধতি আবিষ্কার করে রসায়নে নোবেল দুই নারীর

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৩

জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে ডিএনএ সম্পাদনার সূক্ষ্মতম কৌশল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ফরাসি ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই নারী বিজ্ঞানীকে। এর ফলে ক্যানসারের মতো জটিল ব্যাধির চিকিত্সায় নতুন উপায় তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির

গতকাল বুধবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস জানিয়েছে, জিনোম এডিটিং বা জিনোম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি পদ্ধতির বিকাশে অবদানের জন্য ফরাসি গবেষক এমানুয়েল                 কারপেন্তিয়ের ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক জেনিফার এ. ডুডনাকে নোবেল দেওয়া হচ্ছে। জিনোম বলতে আসলে কোনো জীবের সামগ্রিক ডিএনএকে বোঝায়। একে সহজভাবে বলা চলে জীবনের নীলনকশা বা কোনো জীবের জীবনবিধান। জীবের বৃদ্ধি, প্রজনন, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে জিনোম। জিনোম থেকে ডিএনএ আলাদা করার উপায়কেই জিনোম এডিটিং বলে।

দুই বিজ্ঞানীর আবিষ্কার আসলে কী?

এমানুয়েল কারপেন্তিয়ের ও জেনিফার ডুডনা এই ডিএনএ সম্পাদনার সূক্ষ্মতম কৌশল আবিষ্কার করেছেন। তারা যে পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে, সেটি হলো সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯ পদ্ধতি। এটি নিখুঁতভাবে জিনোম সম্পাদনার কাজটি সম্ভব করেছে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রথম এই আবিষ্কার উন্মুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, টেস্টটিউবে সিএএস৯ নামের একটি ব্যাকটেরিয়াল এনজাইম টেস্টটিউবে কোষের বাইরে থাকা ডিএনএ কেটে আলাদা করে ফেলতে পারে। সেটাকে চাহিদামতো নকশায় সিআরআইএসপিআর মলিকিউলের সঙ্গে আরএনএ সেগমেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে সেটা ডিএনএর ক্ষতিকর অংশ শনাক্ত করে আলাদা করে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীদের জন্য কোনো জীব বা প্রাণীর ডিএনএ পরিবর্তন, কোনো অংশ বাদ দেওয়া, নতুন অংশ সংযোজন করা অথবা জিনোমের নির্দিষ্ট অংশ পরিবর্তন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা দ্রুত, কম খরচের, অনেক বেশি নির্ভুল এবং জিনোম সম্পাদনার অন্যান্য প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ।

এই আবিষ্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আশা করা হচ্ছে, এর ফলে ক্যানসারের মতো জটিল ব্যাধির চিকিত্সায় নতুন উপায় তৈরি হবে। জন্মসূত্রে মানুষের পাওয়া অনেক রোগব্যাধি আগেভাগে ডিএনএ বা জিনোম সম্পাদনার মাধ্যমে দূর করে দেওয়া সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এভাবে জিনোম সম্পাদনা করে ক্ষতিকর অংশ বাদ দিতে পারলে থ্যালাসেমিয়া, মানসিক ব্যাধি, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস, হূদেরাগ, সিস্টিক ফাইব্রোসিস বা ক্যানসারের মতো বংশগত অনেক রোগ আগেভাগেই রেহাই দেওয়া সম্ভব হবে। যেমন সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানব ভ্রূণে থাকা একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ঐ অংশটি ক্ষতিকর থ্যালাসেমিয়া রোগের জন্য দায়ী বলে বলা হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০১৬ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘স্পটি ভেড়া’ জন্ম দিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা, যার শরীরের পশম অনেকটা গরু ও স্পটি কুকুরের মতো। এখানে আণবিক কাঁচি ব্যবহার করে এক প্রাণীর ডিএনএ কেটে অন্য প্রাণীতে যুক্ত করা হয়েছিল।