চট্টগ্রামে স্কুলছাত্র সালমান ইসলাম মারুফকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং মা-বোনকে মারধরের পর ছাত্রটির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) আমীর জাফর। এদিকে গত ২৭ জুলাই মারুফের মা বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু আইনে এসআই হেলালের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আদালতে।
উপ-কমিশনার বলেন, তদন্ত কমিটি হেলালকে অভিযুক্ত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল। সে মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এখন চাকরিচ্যুত করা হলো।
সালমান ইসলাম মারুফ স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পড়ার খরচ চালাতে স্থানীয় একটি মার্কেটে বিক্রয়কর্মী হিসেবেও কাজ করত সে। গত ১৬ জুলাই রাতে ডবলমুরিং থানার বাদামতলীর বড় মসজিদ গলিতে তার বাসায় অভিযানে যান পুলিশ কর্মকর্তা এসআই হেলাল।
মারুফের স্বজনরা জানান, এ ঘটনার কিছুদিন আগে মারুফের বাসা থেকে সাইকেল ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যায় দুই ব্যক্তি গিয়ে মারুফের বাসায় উঁকি দিচ্ছিল। এ সময় মারুফ তাদের চোর সন্দেহে ধরে ফেলে। এরপর এসআই হেলাল পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে মারুফকে মারধর করেন এবং থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও টাকা দাবি করেন। মারুফের মা ও বোন তখন পুলিশকে বাধা দেন। যে দুই ব্যক্তি বাসায় উঁকি দিয়েছিল তারা নিজেদের পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেয়। আর তাদের সঙ্গে থাকা এসআই হেলাল ছিলেন সাদা পোশাকে। সেখানে মারধরের পর কিশোর মারুফের বোন আহত হলে মাসহ তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়, এরপর বাসা থেকে মারুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
