পূর্বধলায় গলাকেটে গৃহবধূ হত্যা, নিহতের বোনের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ২৩:৩৩

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের পশ্চিম পাড়া গ্রামের লিপি নামের সেই গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা মামলার আসামীর মৃত্যুদণ্ড ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের একাংশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিহত গৃহবধূর বড় বোন ফেরদৌসী বেগম। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পূর্বধলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্যে জানান, উপজেলা সদরের পশ্চিম পাড়া গ্রামের মো. আলাল উদ্দিনের ছেলে মো. রাসেল মিয়া তার বোন লিপি আক্তারকে প্রায়ই উত্যক্ত করত ও কু-প্রস্তাব দিত। এতে তার বোন রাজি না হওয়ায় রাসেল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘরে ঢুকে তার বোনকে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর সে নিজেও গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবরটি প্রকাশিত হলে সংবাদের একটি অংশে বলা হয় রাসেলের সাথে লিপির পরকীয়া ছিল। তিনি প্রকাশিত ওই অংশটির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন পরকীয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। প্রকৃত পক্ষে বখাটে রাসেল তার বোন লিপিকে প্রায় সময়ই উত্যক্ত করতো ও কু-প্রস্তাব দিতো।  

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তার বোনে মৃত্যুর সংবাদ শুনে তিনি ময়মনসিংহ থেকে ঘটনাস্থলে আসার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা তার সাক্ষাৎকার নেয়। তখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

এ সময় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম শাহীন, সাবেক সহ-সভাপতি নূর আহাম্মদ খান রতন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী শাহীন, নূর উদ্দিন মণ্ডল দুলাল, জাকির আহমদ খান কামাল, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জায়েজুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সাখাওয়াত হোসেন শিমুল, এমদাদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, মোস্তাক আহমেদ, আল মুনসুর প্রমুখ।

প্রসঙ্গত,গত রবিবার ভোর রাতে উপজেলা সদরের পূর্বধলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের স্ত্রী লিপি আক্তার নামের ওই গৃহবধূকে নিজ ঘরে গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ সময় ওই ঘরে গলাকাটা অবস্থায় লিপির চাচাত দেবর রাসেল মিয়াকে বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

লিপির স্বামী আজিজুল বিজিবিতে প গড়ে কর্মরত। আলিফ নামের তাদের ১২ বছরের এক ছেলে রয়েছে। লিপি তার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতেই থাকেন। ঘটনার দিন রাতে লিপি তার ছেলেকে নিয়ে নিজ ঘরের এক পাশে ও লিপির দেবর আজিজুলের ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে একই ঘরের অন্য পাশে ঘুমচ্ছিলেন।

এ ঘটনায়, গত ৫ অক্টোবর নিহত লিপির বোন ফেরদৌসী বেগম বাদী হয়ে রাসেলকে আসামী করে পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
                                                                                                                                                                                            

ইত্তেফাক/এমএএম