মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস করে শত বিঘা জমির মালিক সালাম

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০১

ছোটবেলা থেকে জমির প্রতি দুর্বলতা ছিল আবদুস সালামের। কিন্তু স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যানের মতো ছোট চাকরি করে জমি কেনা কঠিন। তাই এজন্য যে কোনো অসত্ কাজ করতেও প্রস্তুত ছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে ২০০৬ সালে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপার কাজ চলাকালে প্রশ্ন বের করে আনেন তিনি। প্রতি বছর মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে অসত্ পথে আয় করেছেন কোটি কোটি টাকা। সেই টাকা দিয়ে গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি। গ্রেফতারের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার শত বিঘা জমির হিসাব পেয়েছে সিআইডি। এর বাইরেও তার আরো জমিসহ সম্পদ রয়েছে বলে সিআইডির ধারণা।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, মেশিনম্যান আবদুস সালামের ঢাকা, সাভার ও মানিকগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি আছে। তাকে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা প্রায় ১০০ বিঘা জমির বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। তার আরো জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোতে কাগজ পাঠানো হয়েছে। সিআইডির সিনিয়র এএসপি জিসানুল হক জিসান গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সালামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদে তার জমি ও অন্য সম্পত্তি সম্পর্কে আরো জানতে পারব।’

এর আগে সোমবার বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুস সালামকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৬ সালে প্রশ্ন ফাঁসের পর বিষয়টি জানাজানি হয়েছিল। সে সময় প্রথম দফায় ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করে রাখা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছিল। প্রশ্ন ফাঁসে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় সালামকে তত্কালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. সেফাত উল্লাহ প্রশ্ন ছাপার মেশিন থেকে সরিয়ে দেন। এ কারণে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সালাম প্রশ্ন ফাঁস করতে পারেননি। কিন্তু ২০০৯ সালে এক প্রভাবশালীর তদবিরে আবারও ছাপাখানার মেশিনম্যান পদে ফিরে আসেন তিনি।

সিআইডি বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন আবদুস সালাম। তার খালাতো ভাই জসিমউদ্দিন তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। জসিমের কাছ থেকে ৮০ শিক্ষার্থীর চেক জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, ঐ ৮০ জন শিক্ষার্থীর তথ্য খোঁজা হচ্ছে। তারা কে কোথায় ভর্তি হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে কয়েক জন শিক্ষার্থীকে ধরতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। এখন গ্রামের বাড়ির ঠিকানা ধরে তাদের খোঁজা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সালামের খালাতো ভাই জসিমেরই ৩৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। সেখানে গচ্ছিত আছে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা। জসিমের স্ত্রী শিল্পীরও ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তার ব্যাংকেও ১০ কোটি টাকা আছে।