ডব্লিউএইচও স্বীকৃত কোভিড-১৯ টিকাই কেবল নেবে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০২

বিশ্বের নানা দেশের নানা কোম্পানি কোভিড-১৯ টিকা তৈরি করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতিবিহীন কোনো টিকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। টিকার জন্য শুরুতেই ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশে সবাইকে না পারলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে ৪৬টি ভ্যাকসিনের, আর প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ৯১টির। যারা টিকা তৈরি করছে, শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের একটা বেইজলাইন হলো ডব্লিউএইচও যেটাকে রিকগনাইজ না করবে, সেটাকে আমরা অ্যাকসেপ্ট করব না।

চীনের বেসরকারি কোম্পানি সিনোভ্যাকের টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিনের একটা ট্রায়ালের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হলে টিকা কম দামে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। শুধু তাই না, আমাদের এখানকার এক বা একাধিক ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানি ইন্ট্রোডিউস করবে।

রাশিয়ার টিকার বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রাশিয়ার ক্যামেলিয় ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারের এপিডেমিওলজি এবং মাইক্রোবায়োলজি ‘স্পুটনিক’ ভ্যাকসিন প্রযুক্তি বাংলাদেশে হস্তান্তরের জন্য অফার দিয়েছে। আমরা কন্ডিশন দিয়েছি এটার জন্য ডব্লিউএইচও’র অ্যাপ্রুভাল লাগবে।’

ভারতের টিকার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভারতের বায়োটেক আমাদের এখানে ট্রায়াল করার আগ্রহ দেখিয়েছে। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামভিত্তিক সানোফি অ্যান্ড জিএসকে উদ্ভাবিত টিকা উত্পাদনের জন্য বাংলাদেশের দুটি ওষুধ কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান তিনি। কোভিড-১৯ টিকা কেনার জন্য বাজেটে একটি প্রকল্পের আওতায় ৬০০ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, টিকা কখন কবে বাজারে আসবে, সেটা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কোম্পানি বলতে পারছে না। আমি যে তালিকাটা দেখলাম, ২০২১ সালের এপ্রিল-মে-জুনের আগে মার্কেটে আসবে বলে তারা নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।