প্রকল্পের টাকা পেতে ৯০ লাখ টাকা ঘুষ!

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ০৫:২৫

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো মেরামতে শিক্ষা অধিদপ্তরের ১২টি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে শ্যামনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও চার সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, এ উপজেলায় ১৯১টি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের বরাদ্দের চেক ছাড় পেতে শিক্ষকদের ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫০ টাকা শিক্ষা অফিসারদের ঘুষ প্রদান করতে হয়েছে।
 
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামো মেরামতে শিক্ষা অধিদপ্তর হতে শ্যামনগরে ১৯১টি স্কুলে ১২টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। উল্লেখিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে পিইডিপি-৪ মাইনর মেরামত খাত হতে ১৫ শতাংশ হারে ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান খাত হতে ২৬ শতাংশ হারে ১১ লাখ ৭১ হাজার ৩০০ টাকা, প্রাক-প্রাথমিক ও স্লিপ খাত হতে স্কুল প্রতি ২ হাজার টাকা হারে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা, রক্ষণাবেক্ষণ খাত হতে ১০ শতাংশ হারে ৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা, ক্ষুদ্র মেরামত খাত হতে ১৫ শতাংশ হারে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, খেলাধুলাসামগ্রী খাত হতে ১৫ শতাংশ হারে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অস্থায়ী গৃহনির্মাণ খাত হতে ১৫ শতাংশ হারে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, এডুকেশন ইন ইমারজেন্সি খাত হতে ১৫ শতাংশ হারে ৯০ হাজার টাকা এবং ওয়্যাশব্লক খাত হতে ১০ শতাংশ হারে ৫৯ হাজার টাকা নগদ ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্লিপ খাতের বরাদ্দ হতে ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন ক্রয় বাবদ শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলন ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসেন আলী জানান, শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা ছিল স্লিপ খাতের বরাদ্দের টাকা স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে, যাতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সভাপতি ও সংশ্লিষ্টরা বাজার যাচাই-বাচাই করে হাজিরা মেশিন ক্রয় করতে পারেন। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরিপত্রের নির্দেশনা না মেনে উলটোটা করেছেন। স্লিপ খাতের সমুদয় টাকা থেকে হাজিরা মেশিন কেনা বাবদ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা কেটে নিয়ে বাকি টাকা স্ব-স্ব স্কুলের নামে চেক প্রদান করেন। যা অ্যাকাউন্ট চেক করলে প্রমাণ মিলবে। কিন্তু শিক্ষা অফিসার মেশিন বাবদ অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিলেও অনেক স্কুল এখন পর্যন্ত হাজিরা মেশিন পায়নি।

হাজিপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক কানাইলাল মল্লিক, সোরালক্ষীখালি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী, ধানখালি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হরষিত মন্ডল, টেংরাখালি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, পূর্ব পরানপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, যাদবপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা বেগম, নওয়াবেকী স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেসমিন নাহার, আস্তাখালী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের, বাইনতলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপংকর কুমার ঘোষ জানান, বরাদ্দের চেক পেতে ১৫ শতাংশ আর আম্ফান খাতে ২৬ শতাংশ হারে নগদ টাকা ও ১২ শতাংশ হারে ভ্যাট কেটে নিয়েছে শিক্ষা অফিস।

এসব বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আক্তারুজ্জামান মিলন এবং সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহআলম, আজহারুল ইসলাম, সোহাগ হোসেন ও সোহাগ আলমের সঙ্গে কথা হলে ১২ শতাংশ হারে ভ্যাট ও ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন ক্রয় থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তারা স্বীকার করেন। কিন্তু ১২টি প্রকল্প থেকে ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ