বেগমগঞ্জের ’নজরুল’দের মতো আরো অনেক ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্ত দেশে রয়েছে। নানাভাবে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট এই দুর্বৃত্তরা শুধু এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেই নয় বরং রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও চিহ্নিত। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি ইত্যাদির মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও রয়েছে। অনেকেই একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে নানা কৌশলে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারো একই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। আর অপরাধ করে সহজে পার পেয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা নানা কৌশলে রাজনীতির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এরা কোনো রাজনৈতিক নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী নয়। কোনো কোনো এলাকার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তাব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে এই চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা অবাধে অপকর্ম চালাতে পারছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক অপরাধ আমাদের সমাজে অনেক আগে থেকেই সংঘটিত হয়ে আসছে। মাঝে মধ্যেই এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা, জনসচেতনতা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে—কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে না। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। সামাজিক ও পারিবারিক কারণে বেশিরভাগ ঘটনাই প্রকাশ পায় না। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই অপরাধীদের বিচার যেমন সহজে শেষ হয় না, তেমনি বর্তমানে দেশে বিদ্যমান আইনে এদের কঠোর শাস্তিও নিশ্চিত করা যায় না। কাজেই এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে অবশ্যই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং অপরাধ সংঘটনের আগেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
